বাংলাদেশের সুতার বাজারের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি কৃত্রিম সুতায় বদলে যাওয়া বিশ্ববাজারে দেশের অবস্থান নিয়ে দৈনিক আনন্দবাজারের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নরসিংদী চেম্বারের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইয়াহইয়া নকিব।
আনন্দবাজার: টেক্সটাইল শিল্প কীভাবে করোনার ধাক্কা সামলে নিয়েছে?
আব্দুল্লাহ আল মামুন: করোনার এই বৈশ্বিক মহামারির এই সময়ে পৃথিবীর এমন কোনো ব্যবসা নেই যেখানে এটার প্রভাব পড়েনি। সে ক্ষেত্রে টেক্সটাইল খাতও এর বাইরে না। আমরাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। যার কারণে অনেক কারখানা একপ্রকার বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছিল। তবে যাই হোক আল্লাহর রহমত এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে বিশেষ করে প্রণোদনার অর্থ এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতার জন্য ঋণ প্রদান করোনা পরবর্তী সময়ে ঘুড়ে দাঁড়ানোর জন্য একটি বড় নেয়ামক ছিল। এ কারণে বছর দেড়েক পরে অর্ডার ফ্লো আবার আমাদের কাছে আসছে।
এই অর্ডার ফ্লো ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল। যে কোনো যন্ত্র বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকলে সেটা আবার চালু করতে কিছু অব্যবস্থাপনা থাকে। আমি মনে করি সেই সময়টাও আমরা অতিবাহিত করে ফেলেছি। আপনি বিগত কয়েক মাসে যদি এক্সপোর্ট গ্রোথ দেখেন তাহলে বুঝবেন যে বাংলাদেশ কিন্তু আবার পুরোনো ঐতিহ্যে এমনকি (রফতানিতে) তার থেকেও ভালো অবস্থানে ফিরেছে। এই ছিল সার্বিক অবস্থা। এর মাঝখানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল।
আনন্দবাজার: সুতার দাম বৃদ্ধি নিয়ে পোশাক কারখানার সঙ্গে এক ধরণের সমস্যা হচ্ছিলো সেটা কীভাবে সমন্বয় করা হয়েছে?
আব্দুল্লাহ আল মামুন: সেটাই বলছি- যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ছিল সেটা ছিল তুলার দাম বৃদ্ধির কারণে সুতার অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। এতে আমাদের স্থানীয় যারা গামেন্টস ম্যানুফেকচারার, ফেব্রিক্স ম্যানুফেকচারার তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটা আসলে চাহিদা ও যোগানের একটা বিষয় ছিল। হুট করে চাহিদা অনেক বেড়ে যাওয়ার কারণে সরবরাহের সংকট ছিল। এর কারণে প্রডাক্টের (সুতার) দাম বেড়ে গিয়েছিল।
হ্যাঁ, আমি একমত যে এখানে কিছু কিছু স্পিনিং কারখানা কিছু ক্ষেত্রে আমি বলবো অযাচিত মূল্য বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। সুবিধাটা নিয়েছেন। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কেউ আসলে সুযোগ পেলে সুবিধা নিয়ে চায়। তবে আমারা বিটিএমের পক্ষ থেকে এটা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছি। যাতে করে এটা মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে। এটা আমরা চেষ্টা করেছি এবং এখনো করে যাচ্ছি। আমরা আশা করি কয়েক মাসের মধ্যে এটা (মূল্য) স্থিতিশীল হয়ে যাবে। সম্পূর্ণভাবে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটা ভারসাম্য চলে আসবে।
আনন্দবাজার: এখনো কি (সুতার) মূল্য বৃদ্ধির সমাধান হয়নি?
আব্দুল্লাহ আল মামুন: এখানে দুটি বিষয়। এখানে রফতানির যে অর্ডারগুলো রয়েছে সেক্ষেত্রে ক্রেতারা মূল্য একটু পর্যালোচনা করে কিছুটা বেশি দিচ্ছেন। কিন্তু একটা বিশেষ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় বাজারে। সেটা মারাত্মকভাবে এখনো ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছে। এখনো স্থানীয় (দেশীয়) বাজারটা যথাযথভাবে পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। পুরোনো জাগায় ফিরে যেতে পারেনি। এটা একটা বিশেষ সমস্যা আমরা লক্ষ্য করছি। আশা করছি, সামনের রমজান ও ঈদের সিজনে এটা আমরা আবার পুনরুদ্ধার করতে পারবো।
আনন্দবাজার: সুতার প্রধান কাঁচামাল হিসেবে তুলার প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়। এটার কি কোনো বিকল্প চিন্তা করা যায়?
আব্দুল্লাহ আল মামুন: না, দেখেন তুলা তো হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক পণ্য, কৃষিপণ্য। এটা আমাদের বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী নয়। আসলে এখানে আমরা একদম নূন্যতম কিছু তুলা উৎপাদন করে থাকি। সেটা ১ শতাংশের কম। সম্পূর্ণ ভোগের ১ শতাংশের কম। আমরা ৯৯ শতাংশ তুলাই দেশের বাইরে থেকে আমদানি করি। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে তুল উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যদি এটা ডেভেলপ করা যায় তাহলে এটা অন্য একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। আপনি জানেন বাংলাদেশে জমি স্বল্পতা রয়েছে, কৃষি জমির স্বল্পতা রয়েছে। কারণ তুলার জন্য বিশাল বিশাল জমির প্রয়োজন হয়। সেটা বাংলাদেশে কতটুকু আছে সেটা একটা বিশ্লেষণের বিষয়।
আনন্দবাজার: অনেকে আফ্রিকাতে জমি লিজ নিয়ে তুলা উৎপাদনের কথা বলে। এটা কতটা সম্ভব বলে মনে করেন?
আব্দুল্লাহ আল মামুন: আফ্রিকান কয়েকটা দেশ আমাদের আহ্বান বা ইনভাইটেশন দিয়েছে। সেখানে গিয়ে আমরা তুলা উৎপাদন করতে পারি কিনা সেটা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। কারণ পলিসিগত কিছু বিষয় রয়েছে। আমরা ইচ্ছা করলেই কোনো একটা দেশে গিয়ে কাজ করতে পারি না। এই বিষয়গুলো সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। এটা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
আনন্দবাজার: সুতার বাজার কতটা সম্প্রসারিত হচ্ছে বা আগামী ৫ বছর পর এটা কতটা সম্প্রসারিত হবে কিংবা সুতার ব্যবসাটা কোন দিকে যাবে বলে মনে করেন?
আব্দুল্লাহ আল মামুন: বাংলাদেশ কটন বেজড গামর্ন্টেস ম্যানুফেকচারিংয়ে একটা অবস্থান তৈরি করেছে। এটা সারবিশ্বব্যাপী সমাদৃত। আমরা আশা করছি এবং আমরা প্রস্তুতিও নিচ্ছি যেন সারা বিশ্বে কটন বেজড গামের্ন্টেসে আমরা নেতৃত্ব দিতে পারি। আমি বিশ্বাস করি সুতি কাপড়ের বাজারে আমরা আগামীতে নেতৃত্ব দিব ইনশাঅল্লাহ।
আনন্দবাজার: ফাইবার টু ফ্যাশন ম্যাগাজিন বলছে, ১০ বছরে সিনথেটিক সুতার চাহিদা ৭০ ভাগ বেড়েছে বিপরীতে তুলার সুতার চাহিদা কমেছে। সে বাজার দখলে আমরা কতটা ভাবছি বা প্রস্তুতি নিচ্ছি?
আব্দুল্লাহ আল মামুন: খুব ভালো প্রশ্ন করেছেন। আসলে এই সিনথেটিক ফাইবার বা ম্যানমেড ফাইবারের চাহিদা সারা বিশ্বে বাড়ছে। সাসটেইনেবল চিন্তা থেকে এটা হচ্ছে। আমার ম্যানমেড ফাইবারকে বলছি ভবিষ্যৎ ফাইবার। সেক্ষেত্রে পৃথিবীর সব দেশ অথবা বড় বড় বায়াররা সিনথেকিট ফাইবারের দিকে ঝুঁকছে। সে বিষয়ে অমরাও কাজ করছি এবং সরকারের সঙ্গে কথা বলছি। কিন্তু পলিসি লেভেলে এখানে কিছু কাজ রয়েছে। এগুলো নিয়ে সরকারকে বিশেষভাবে কাজ করতে হবে। যেমন কটন ফাইবার আমরা আমদানি করলে সেখানে আমাদের কোনো টেক্স দিতে হয় না। কিন্তু সিনথেকিট বা ম্যানমেড ফাইবার আমদানি করতে আমাদের কাস্টমস টেক্স দিতে হয়। এটা আমাদের জন্য একটি বড় অন্তরায়। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এই ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধাগুলো সমাধান করে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে হবে।
আনন্দবাজার: এক্ষেত্রে ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ বা সরকারের কাছে কী ধরণের সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন?
আব্দুল্লাহ আল মামুন: সরকারের বিশেষ পলিসি সাপোর্ট লাগবে। কারণ সর্বোপরি এটি একটি নিউ ডাইমেনশন। এটার একটা নতুন ডেভেলপমেন্ট হবে। সম্পূর্ণ একটি নতুন উৎপাদন পদ্ধতি দাড় করাতে হবে। সে কারণে আমি মনে করি সরকারের এখানে সু-নজর দেওয়া উচিত। বিশেষ করে পলিসি ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে, প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে,রি-ফাইনেনসিংয়ের ক্ষেত্রে।
আনন্দবাজার: চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ধারায় প্রযুক্তির ব্যবহার বা অটোমেশনের ফলে কর্মসংস্থানের ওপর বাড়তি কোনো চাপ সৃষ্টি হবে কিনা?
আব্দুল্লাহ আল মামুন: দেখুন এটা একটা মিথ (কল্পনা)। পৃথিবীতে যখন কম্পিউটার আবিষ্কার হয়েছিল তখন আমরা ধারণা করেছিলাম যে অনেক মানুষ বেকার হয়ে যাবে। কিন্তু আসলে কি তাই হয়েছে? নিশ্চয়ই না। সেরকম একটা মিথ এখনো আছে যেটা সত্য-মিথ্যার ঊর্ধ্বে। যেমন আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স অথবা রোবটিক বা এআই এ সমস্ত জিনিস ইন্ডাস্ট্রিজে আসার ফলে জনগণের সম্পৃক্ততা অথবা কর্মসংস্থান করতে পারবে না। আমার মতে এটা আসলে শ্রমসংস্থার করার ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। কারণ পৃথিবী দিন দিন উন্নত হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো মানুষ মানিয়ে নিবে।
আনন্দবাজার: গামের্ন্টস সেক্টরের জন্য ভারত সাত হাজার একর জমি নিয়ে সাতটি শিল্প পার্ক করছে। সেক্ষেত্রে আমরা এ ধরণের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছি কিনা বা আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আব্দুল্লাহ আল মামুন: ভারত করছে সাতটি আর আমরা করছি একশ ইকনোমিক জোন। শুধুমাত্র টেক্সটাইল নিয়ে নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে ভিশন রয়েছে সেটা হচ্ছে এক্সপোর্টকে ডাইভার্সিফাই করা, বিকেন্দ্রীকরণ করা। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের ইন্ডাস্ট্রিজ আসবে। শুধু টেক্সটাইল করতে হবে তা নয়। আপনি মিরসরাইয়ের ৫০০ একর জমির কথা বলেছেন, আপনি জেনে থাকবেন জামালপুরে অগ্রাধিকার ভিক্তিতে জমি দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া বেশ কিছু ইপিজেডে সুযোগ দেয়া হচ্ছে এবং কোথাও বাধা নেই। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় বিসিক শিল্প নগরী রয়েছে। সুতরাং আমরা মনে করে আমরা খুব পিছিয়ে নেই।
আনন্দবাজার: তরুণ বিনিয়োগকারীদের কোন সেক্টরে বিনিয়োগ করতে বলবেন?
আব্দুল্লাহ আল মামুন: নতুন শিল্প উদ্যোক্তা যারা রয়েছেন আমি সকলের প্রতি আহ্বান করবো যে, টেক্সটাইলে আমরা বিশ্ব মার্কেটে যেহেতু একটা ভালো অবস্থান তৈরি করেছি এখন আমাদের উচিত হবে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ এবং ফরওয়ার্ড ইন্টিগ্রেশনের দিকে চিন্তা করা। আমাদের দেশে আমরা টেক্সটাইলে ৩ হাজার কোটি ডলার রফতানি আয় করছি। তবে এটা করতে গিয়ে আমার প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার আমদানি করতে হচ্ছে। সেই জায়গাটাতে আমাদের ফোকাস করতে হবে। এ দুই হাজার কোটি ডলারের মধ্যে কী কী পণ্য আমরা আমদানি করছি এবং সে পণ্যগুলি কীভাবে আমরা এখানে বানাতে পারি। তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে উনারা যেন বিশেষ করে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রিগুলোর প্রতি মনযোগ দেন। তাহলে এর বাজার খোঁজার জন্য আমাদের দেশের বাইরে যেতে হবে না। তাছাড়া আমদের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে রফতানিকারকরা তাদের পণ্য পেয়ে যাবেন।
আনন্দবাজার: রফতানি শিল্পে অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশি নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে দেশের নির্বাহী নিয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরণের বাধা রয়েছে?
আব্দুল্লাহ আল মামুন: আমি মনে করি না কোনো বাধা আছে। বেশ কিছু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি সিইও রয়েছে। হ্যাঁ, এখানে একটি মিস কনসেপশন বা নেগেটিভ ইমোশনাল স্টেটমেন্ট অনেকে দেয় যে, এদেশের কোম্পানিগুলো বাইরে থেকে সিইও নিয়ে আসে। আমি এ বিষয়ে বিনয়ের সঙ্গে একটু দ্বি-মত পোষণ করবো। আসলে একজন অভিজ্ঞ মানুষ যদি আসেন আমাদের দেশে, আর তিনি যদি দু-পাঁচবছর আমাদের এখানে কাজ করেন। তাহলে উনি যেমন বেতন হিসেবে টাকাটা নিয়ে যাচ্ছেন, তেমনি উনি অভিজ্ঞতাটা দিয়ে যাচ্ছেন। একটা টিম তৈরি করছেন। সেক্ষেত্রে আমাদের প্রাশাসনিক নতুন বিষয়ের সঙ্গে এবং অনেক কিছুর সঙ্গে নতুনভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে। আমি মনে করবো এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। আমরা অনেক মেধাকে এখানে আনতে পারছি এবং তাদের সঙ্গে থেকে আমাদের দেশের ছেলেরা আরো অভিজ্ঞ হচ্ছে। এটাকে আমি মনে করি ইমোশনালি না দেখে যুক্তিসংগতভাবে দেখা উচিত।
আনন্দবাজার: তরুণদের অনেকে শিক্ষা শেষে কারখানার কাজে সম্পৃক্ত হতে পারছে না। সেক্ষেত্রে শিল্পকারখানার বা তরুণদের কি করণীয় আছে বলে মনে করেন?
আব্দুল্লাহ আল মামুন: এটি একটি চমৎকার প্রশ্ন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে আমরা দেখেছি যে কারখাগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটা সংযোগ থাকে। ইন্ডাস্ট্রি থেকে এক ধরণের রিকোয়ারমেন্ট দেয়া হয় যে আমরা এই সেক্টরের কিছু প্রকৌশলী চাই। সে অনুযায়ী বিশ্বাবিদ্যালয় বা পলিটেকনিকগুলো তারা তাদের সাবজেক্ট ডিজাইন করে। সে জিনিসটা আমাদের এখানে অপেক্ষাকৃত কম তবে শুরু হয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রমে সরকার কিছু কিছু কাজ করছে। যদিও সেটা ধীরে হচ্ছে। আমি মনে করি দ্রততম সময়ের মধ্যে এটার একটা সমন্বয় করে ইন্ডাস্ট্রিজের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আমরা যদি আমাদের মেধাগুলোকে তৈরি করতে পারি তাহলে সমন্বয়ের দুর্বলতা কাটানো যাবে। একদিকে মানুষ চাকরি পাচ্ছে না অন্যদিকে আমরা দক্ষ লোক পাচ্ছি না। এটা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব হবে।
আনন্দবাজার: আপনি নরসিংদী চেম্বারের নেতৃত্ব দিয়েছেন এখন জাতীয় পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আগামীতে নিজিকে কোথায় দেখতে চান?
আব্দুল্লাহ আল মামুন: আমি কাজ করে যেতে চাই। ব্যবসায়ি হিসেবে আমি ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি আমার ইচ্ছা সামাজিক সংগঠনগুলোর একদম কাছাকাছি থেকে কাজ করে যাওয়া।
আনন্দবাজার: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আব্দুল্লাহ আল মামুন: আপনাকেও ধন্যবাদ। সেই সঙ্গে আনন্দবাজার এগিয়ে যাক।
আনন্দবাজার/শহক




