শুক্রবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আমদানি বাড়লেও কমছে না চালের দাম

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি আগের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও দাম কমছে না, বরং প্রতিদিন বেড়ে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে চালের বাজার। কয়েক দিনের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

দেশীয় কৃষকের উৎপাদিত ধান ও চালের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও আমদানি নিরুৎসাহিত করতে চালের আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ করেছিল সরকার। এতে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তাতে চালের মূল্য বেড়ে লাগামহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু করোনার কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন আমদানিকারককে সাত লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। আমদানি শুল্কও ৬২ দশমিক ৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। ফলে দেড় বছর পর গত ৯ জানুয়ারি বন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়, দামও কমতে শুরু করে।

যদিও সম্প্রতি নানা অজুহাতে চালের দাম কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে স্বর্ণা চাল পাইকারিতে ৪০ থেকে বেড়ে ৪২ টাকা, আটাশ চাল ৪৪ থেকে বেড়ে ৪৭ ও শম্পা ৫৪ থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা হয়েছে; খুচরায় যা আরো ১-২ টাকা বাড়তি দাম বেক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে চাল কিনতে আসা ভ্যানচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, আশা করছিলাম ভারত থেকে চাল আমদানি হওয়ার পর দাম কমে আসবে। আমরা গরিব মানুষ কম দামে চাল কিনতে পারব। কিন্তু বন্দর দিয়ে আমদানি হলেও চালের দাম কমবে কি, আরো বাড়ছে। আমরা খুব কষ্টেই আছি।

আরও পড়ুনঃ  পাকিস্তান থেকে সরাসরি ভারতের আজমেরেতে পঙ্গপালের হানা

হিলি বাজারের চাল বিক্রেতা তপন কুমার ও সুব্রত কুণ্ডু বলেন, ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হওয়ার পর চালের বাজার কমতির দিকে ছিল। কিন্তু বন্দর দিয়ে চাহিদামতো চাল আমদানি না হওয়ায় সম্প্রতি আবারো দাম বাড়তে শুরু করেছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাল আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক কমিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ আমদানির সুযোগ দিতে হবে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, সরকারি অনুমোদনের পর আমদানিকারকরা ব্যাপক পরিমাণে চালের এলসি খুলেছেন, যার বিপরীতে বেশকিছু চালবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ভারতের অভ্যন্তরে তীব্র যানজটের কারণে সঠিক সময়ে চালগুলো দেশে প্রবেশ করতে পারছে না। আবার আমরা চাহিদামতো চাল আমদানি করতে পারছি না। যদিও আমরা রফতানিকারকদের ওপর চাপ প্রয়োগসহ বিভিন্ন উপায়ে চাল আমদানির চেষ্টা করছি।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন