শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কমে গেছে শিল্পঋণের বিতরণ ও আদায়

করোনাভাইরাসের কারণে গোটা বিশ্বে ব্যবসায় দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। বাংলাদেশেও পড়েছে এর বিরূপ প্রভাব। ফলে দেশের শিল্পখাতে ঋণ বিতরণে ভাটা পড়েছে, কমেছে আদায়ের পরিমাণও।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে দেশের শিল্পখাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৭৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। গত বছর একই সময়ে শিল্প খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিক থেকে জুনে শিল্পঋণ বিতরণ কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলো ৯১ হাজার ৬৬২ কোটি টাকার শিল্পঋণ বিতরণ করে।

এদিকে ঋণ বিতরণের পাশাপাশি বিতরণকৃত শিল্পঋণ আদায় কমেছে ৩০ শতাংশ। জুন প্রান্তিকে শিল্পঋণ আদায় হয়েছে ৬৪ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৯১ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য কমে গেছে। নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি। যার কারণে সাহস করে উদ্যোক্তারা নতুন কোনো প্রকল্প হাতে নিচ্ছেন না। উল্টো অনেকে ক্ষতি কমাতে ব্যবসার পরিধি কমিয়ে দিচ্ছেন। মূলধনী যন্ত্রপাতি বড় বড় ইন্ডাস্ট্রির পণ্যের কাঁচামাল আমদানিও কমে গেছে। এসব কারণে শিল্পঋণ কমেছে।

তিনি বলেন, যেকোনো উপায়ে বিনিয়োগ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে। কারণ নতুন প্রতিষ্ঠান না হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। সরকার ব্যবসায়িক ক্ষতি মোকাবিলায় শিল্প খাতসহ বিভিন্ন খাতে যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তার সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তাদের তদারকি বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  আমানতকারীদের সুরক্ষায় নতুন আইন করছে সরকার

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এ প্রসঙ্গে জানান, কোভিড-১৯ এর কারণে সবকিছু বন্ধ ছিল। সুদহার সিঙেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হলেও মহামারির কারণে এ সুযোগ উদ্যোক্তারা কাজে লাগাতে পারেননি। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। রফতানি বাড়ছে। আগামীতে সংকট কেটে যাবে; ঋণের চাহিদাও বাড়বে।

আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন