শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

করোনায় ব্যাংকিং লেনদেন নেমেছে অর্ধেকে

করোনার কারণে অর্ধেকে নেমে এসেছে ব্যাংকের লেনদেন। ব্যবসাবাণিজ্য স্থবির হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকে নগদ জমা ও উত্তোলন কমে গেছে। একই সাথে কমে গেছে এটিএম কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন। সেই সাথে কমেছে আন্তঃব্যাংক লেনদেনও। পাশাপাশি কমেছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে, করোনা শুরু হওয়ার আগের দুই মাসে গড়ে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার ওপরে আন্তঃব্যাংক লেনদেন হতো। কিন্তু গত এপ্রিলে তা কমে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

সাধারণত ব্যবসায়ী, ঠিকাদারসহ ব্যাবসায়িক বেশির ভাগ গ্রাহক লেনদেন করেন চেকের মাধ্যমে। চেকের মাধ্যমে লেনদেন হয় ব্যাংকিং খাতের মোট লেনদেনের প্রায় ৮০ শতাংশ। করোনা শুরু হওয়ার আগে অর্থাৎ ডিসেম্বরে গড়ে ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ২০৫টি চেকের মাধ্যমে লেনদেন হয় ২ লাখ ৭২৪ কোটি টাকা। আর প্রায় ২৪ হাজার নন-এমআইসিআর চেকের মাধ্যমে ৯৯৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় একই ধরনের লেনদেন হয়; কিন্তু মার্চ মাস থেকে এই লেনদেন কমতে শুরু করে। করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় গত এপ্রিলে এসে এমআইসিআর চেকের মাধ্যমে লেনদেন ২ লাখ কোটি টাকা থেকে ৯৩ হাজার কোটি টাকায় নেমে গেছে। মে, জুন ও গত জুলাইতে এ লেনদেন আরো কমে গেছে। কিন্তু দীর্ঘ তিন মাস অর্থাৎ, এপ্রিল, মে ও জুন মাসে সীমিত ব্যাংক লেনদেন হয়। এর ফলে এ তিন মাসে লেনদেনের হার আরো কমে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র।

আরও পড়ুনঃ  করোনায় বিশ্বে মৃত্যু ছাড়াল ২৫ লাখ

এজেন্ট ব্যাংকিং লেনদেনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে করোনাকালে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গত ডিসেম্বরে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা, জানুয়ারি মাসে সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ২০ হাজার ২২৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়। কিন্তু মার্চ থেকে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ায় এজেন্ট ব্যাংকিং লেনদেন হোঁচট খায়। মার্চে ২০ হাজার কোটি টাকা থেকে সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা, এপ্রিল মাসে তা ১১ হাজার কোটি টাকায় নেমে যায়। মে, জুন, ও জুলাই মাসের হিসাব এখনো চূড়ান্ত করা হযনি। তবে এ তিন মাসের হিসাব আরো খারাপ অবস্থানে নেমে গেছে এজেন্ট ব্যাংকিং লেনদেন।

বিভিন্ন ধরনের এটিএম কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন ও জমা দেয়া হয়। একই সাথে বিভিন্ন বিপণিবিতানে কেনাকাটাও করা হয় বিভিন্ন প্রকার ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। করোনার প্রভাবে এ ইলেকট্রনিক লেনদেনেও ধস নেমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে এটিএম কার্ডে ১ কোটি ৮৩ লাখ ৫৭ হাজার ২৭৯টি লেনদেন সংগঠিত হয়। এতে ১৪ হাজার ৭০৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়। জানুয়ারি মাসে লেনদেন হয় ১৪ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার। ফেব্রুয়ারি মাসে লেনদেন হয় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকার। কিন্তু এপ্রিলে এসে লেনদেন ৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে যায়। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তের আয় কমে যাওয়ায় ও বিভিন্ন অফিস-আদালত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এটিএম কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনে ধস নেমেছে। তেমনিভাবে গত ডিসেম্বরে বিভিন্ন ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যেখানে ১ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়, সেখানে এপ্রিলে এসে সেটা ৪৫৪ কোটি টাকায় নেমে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  করোনায় ভয়াবহ বিপর্যয়ে পোশাক খাত

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মানুষের আয় কমে যাওয়ায় ব্যাংক লেনদেনও কমে গেছে। এর প্রভাবে ব্যাংকের আয়ও কমে গেছে। এতে ব্যাংকগুলো পরিচালন ব্যয় কমিয়ে দিচ্ছে। কোনো কোনো ব্যাংক লোকবল ছাঁটাই করছে। কোনোটি বেতনভাতা কমিয়ে দিচ্ছে। এভাবে ব্যয় কমিয়ে ব্যাংকগুলো টিকে থাকার চেষ্টা করছে। এটি যত দীর্ঘায়িত হবে ততই দেশের অর্থনীতির জন্যও অসনিসঙ্কেত দেখা দেবে বলে ব্যাংকাররা আশঙ্কা করছেন।

 

আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন