ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিগগিরই বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছে সরকার

দেশে শিগগিরই বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছে সরকার। যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে হবে। পরে এসব ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে প্লান্টের মাধ্যমে বার্ন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। সম্প্রতি এ কথা বলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন।

গতকাল বুধাবার (১২-০৮-২০২০) রাজধানীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে উত্তর সিটি করপোরেশন অধীন কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন এবং ছোট-বড় শহরে, এমনকি গ্রামগঞ্জ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। দেশেও সব ধরনের বর্জ্য পুড়িয়ে বিদুৎ উৎপাদন করার জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।’

শহর এবং গ্রামাঞ্চলে পশু-পাখির মৃতদেহসহ ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নমৃত পশু-পাখির দেহের অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় একদিকে যেমন এগুলো পচে নানা রোগ-জীবাণু সৃষ্টি হয়, ওপরদিকে মাটি, পানি এবং বায়ুদূষণসহ সার্বিকভাবে পরিবেশ দূষিত হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য সচেতন নাগরিক হয়ে যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে পরিচ্ছন্ন নগরী তথা দেশ গড়তে হবে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও মানুষ, তাদের প্রতি আমাদের আন্তরিকতা, সম্মান এবং দায়িত্ব আছে। তাদেরও উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখা এবং স্বপ্ন পূরণের অধিকার আছে’ উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর আদেশে তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। আশা করছি এতে সবাই উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সারা জীবন আন্দোলন-সংগ্রাম করে গেছেন। সব মানুষ যাতে তাদের মৌলিক অধিকার পায় এ ব্যাপারটিকে বঙ্গবন্ধু আন্তরিকভাবে অনুধাবন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর অনুধাবন থেকে শিক্ষা নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে সব খেটে খাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। সেই সাথে তিনি খাবারের আয়োজন করায় উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রকেও ধন্যবাদ জানান।

এই ব্যাপারে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, এটি একটি ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান। এ ধরনের অনুষ্ঠান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এর আগে কখনো করা হয়নি। আমরা মনে করি আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা, মশকনিধন কর্মীরা এ করোনাভাইরাসের মধ্যেও জীবনবাজি রেখে তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন। এ শহরকে পথিকভাবে-পরিচ্ছন্ন রাখছেন। আজ আমরা প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং মশকনিধন কর্মীদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছি। আমি খেটে খাওয়া মানুষদের সাথে সব সময় থাকতে চাই।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী এবং মেয়র পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মশক নিধন কর্মীদের সাথে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই, সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এম সাইদুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন প্রমুখ।

আনন্দবাজার/এইচ এস কে

সংবাদটি শেয়ার করুন