এখন থেকে কৃষিজমি চাষ না করলেই হয়ে যাবে সরকারি খাস জমি। কৃষিজমি সহ যেকোন জমি পতিত রাখলেই তা খাস (সরকারের নিয়ন্ত্রণে) হয়ে যাবে বলে আদেশ জারি করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে একাধিক জেলার প্রশাসন।
আদেশে বলা হয়েছে- জমি অনাবাদি/পতিত ফেলে রাখলে ওই জমি রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন-১৯৫০-এর ৯২ ধারা অনুযায়ী খাস খতিয়ানভুক্ত করার আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩ এপ্রিল ৩১ দফা নির্দেশনা দেন। তার ১৫ নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়- খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। বেশি বেশি ফসল উৎপাদন করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার করতে হবে। কোনো জমি যেন পতিত না থাকে।
এটি বাস্তবায়নে দেশকে ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করে ১৪ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
ঢাকার দায়িত্ব পালন করবেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আরিফুর রহমান অপু, কুমিল্লা অঞ্চলে আশ্রাফ উদ্দিন আহমেদ, ময়মনসিংহে ড. আবদুর রৌফ, বগুড়ায় কমলারঞ্জন দাশ, দিনাজপুরে মাহবুবুল ইসলাম, রাজশাহীতে আবদুল কাদের, ফরিদপুরে হাসানুজ্জামান কল্লোল ও খুলনায় অতিরিক্ত সচিব বলাই কৃষ্ণ হাজরা।
এ ছাড়া রংপুর অঞ্চলের দায়িত্ব পেয়েছেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান রেজাউল করিম, যশোরে যুগ্ম সচিব দেলোয়ার হোসেন, বরিশালে তাজকেরা বেগম, রাঙ্গামাটিতে জহুরুল হক, চট্টগ্রামে ড. হুমাইরা সুলতানা এবং সিলেট অঞ্চলের দায়িত্ব পেয়েছেন যুগ্ম সচিব এটিএম সাইফুল ইসলাম।
এ বিষয়ে ঢাকা অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) আরিফুর রহমান অপু বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে যেন দেশে খাদ্য ঘাটতি না থাকে এবং সর্বোচ্চ ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিমন্ত্রীও বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। কৃষিতে যন্ত্রের সার্বোচ্চ ব্যবহার, কৃষি প্রণোদনার সর্বোচ্চ সদব্যবহার, পারিবারিক সবজি বাগান স্থাপন ও কৃষকের তালিকাসহ সব ধরনের কৃষি কার্যক্রম দেখভাল করতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালে মন্ত্রিসভায় ‘জাতীয় কৃষি নীতিমালা, ২০১৮’-এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। এতে বলা হয়, দেশে আবাদযোগ্য কোনো জমি পতিত রাখা যাবে না।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস




