ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আপনার ভোট, আপনার ক্ষমতা: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আপনার হাতে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সাথে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে দেশের নতুন রূপ, ভবিষ্যৎ কাঠামো এবং রাষ্ট্রীয় অগ্রযাত্রার গতিপথ।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইতোমধ্যে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পুরনো আইনগুলো সংশোধন করা হয়েছে এবং নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষ উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো জুলাই জাতীয় সনদ, যা মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার নিশ্চিত করার জন্য আদেশ আকারে জারি করা হয়েছে।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এখন নাগরিকদের অনুমোদনের পালা এসেছে। তাই আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এই নির্বাচনে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ভোটাররা হ্যাঁ বা না ভোটের মাধ্যমে সংস্কারের প্রতি মতামত প্রকাশ করবেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই এই নির্বাচন হোক উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু। নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং পর্যবেক্ষণের প্রতিটি ধাপকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ভোট শুধু কাগজে সিল দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি নতুন রাষ্ট্র গঠনে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা এবং দেশের অগ্রগতিতে সরাসরি অবদান। দেশের মালিকানা আপনার হাতে, আর সেই মালিকানার স্বাক্ষর হলো আপনার ভোট।

তিনি রাজনৈতিক নেতাদেরও আহ্বান জানান, একে অপরকে প্রতিযোগী হিসেবে দেখুন, শত্রু হিসেবে নয়। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্যভাবে পরিচালনা করুন, যাতে জনগণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখে। ভোট ডাকাতি যারা করবে, তারা দেশের স্বাধীনতা হরণকারী। তাই নাগরিকদের রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।

ভোট জমা দেওয়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভোট না দিলে কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব নয়। ভোট আপনার হাতে দিয়ে আসুন, বাধা দিলে সুশৃংখলভাবে প্রতিহত করুন এবং প্রয়োজন হলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিন। যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিন, দেশকে নিরাপদ ও এগিয়ে নিতে অবদান রাখুন।

তিনি আরও বলেন, ভোট রক্ষা করা মানে দেশকে রক্ষা করা। ভোট দেশের অগ্রগতির গতি নির্ধারণ করে। কাউকে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে দেবেন না।

অন্তে প্রধান উপদেষ্টা জানান, আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রশাসনকে আরও কার্যকর, নিরপেক্ষ ও নির্বাচনী পরিবেশের উপযোগী করতে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে। এগুলো করা হয়েছে দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতার ভিত্তিতে। লক্ষ্য একটাই—সব ভোটার যেন নিরাপদ পরিবেশে ভয়মুক্তভাবে ভোট দিতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন