শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ধানের চেয়ে বেশি লাভ মাছে

ধানের চেয়ে বেশি লাভ মাছে

দেশের অর্থনীতির বদলে নবদিগন্তের সূচনা করেছে মাছ চাষ। স্থানীয় চাষিরা বছরজুড়ে পুকুর, খাল, বিল, জলাশয়ে মৎস্য চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। এরইমধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার কৃষকরা একই জমিতে মৎস্য ও ধান চাষ করে বাজিমাত করেছেন। একই জমিতে পৃথক দু’চাষ হওয়ায় জমি উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে ফসল উৎপাদনও। সেই সঙ্গে বেড়েছে কৃষকের আয়ও। 

উপজেলার মৎস্য অফিস জানায়, এ উপজেলায় বৎসরে উৎপাদিত হচ্ছে ৪৭২০ টন মাছ। এরমধ্যে উপজেলায় মাছের চাহিদা রয়েছে ৩৫৭৫ টন। উদ্ধৃত থাকছে ১১৪৫ টন। যা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে পৌর শহরসহ উপজেলার নিচু এলাকায় জমিতে ৫ থেকে ৭  মাস পানি থাকে।  আর শুষ্ক মৌসুমে ওইসব নিচু এলাকায় কৃষকরা এক ফসলি ধান চাষ করছেন। ধান কাটা শেষ হতে না হতেই ওইসব জমিতে পানি চলে আসায় স্থানীয় মৎস্যচাষি ও কৃষকরা বাঁধ দিয়ে মৎস্য চাষ করছেন। এরমধ্যে কেউ ইজারা নিয়ে আবার কেউ বা নিজে বা অংশীদারে মাছ চাষ করছে।

চাষকৃত মাছের মধ্যে রয়েছে রুই, কাতল, মৃগেল, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, স্বরপুঁটি, কার্প, গ্রাসকাপ, বোয়ালসহ নানা প্রজাতির মাছ।

মাছ চাষি মো. বাছির মিয়া বলেন, বাড়ি সংলগ্ন বিলে তার ৪৫ শতক নিচু জমি রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে এক ফসল ধান আবাদ করছেন। তবে বর্ষা মৌসুমে জমিতে ৬-৭ মাস পানি থাকায় উপজেলা মৎস্য অফিসের পরামর্শে গত কয়েক বছর ধরে তিনি ধানকাটার পরে দেশিয় পদ্ধতিতে নানা জাতের মাছ চাষ করছেন। গত বছর মাছ চাষ করে খরচ বাদে ৪০ হাজার টাকা তার আয় হয়। আর এ জমিতে ধান চাষে পেয়েছেন ১০ হাজার টাকা। ধান থেকে মৎস্য চাষে আয় বেশি হওয়ায় তিনি খুবই খুশি। 

আরও পড়ুনঃ  দুগ্ধশিল্পে বড় সম্ভাবনা

মো. হুমায়ুন মিয়া বলেন, বাড়ি সংলগ্ন একটি বিলে বেশ কয়েকজন কৃষকের প্রায় ১৫ বিঘার উপর জমি রয়েছে। ওইসব জমি এক ফসলি হওয়ায় ধানকাটার পর স্থানীয় কয়েকজন মিলে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন। এ পযর্ন্ত ১৪  লাখ টাকার উপর মাছ বিক্রি হয়েছে বলে জানায়। আরো ২ লাখ টাকার উপর মাছ বিক্রি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে যাবতীয় খরচ বাদে ৪ লাখ টাকার উপর আয় হবে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, বর্ষা মৌসুমে কয়েক মাস নিচু এলাকার জমিগুলোতে পানি থাকে। মৎস্য চাষিরা নানা কৌশলে ওইসব জমিতে মাছ চাষ করে চমক সৃষ্টি করেছেন। একই জমিতে ধান ও মাছ চাষে জমি উর্বর থাকে। ফলন ও ভালো হয়।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন