সোমবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি
  • শীত মৌসুম ঘিরে চাহিদা কমার সুযোগ
  • জাতীয় গ্রিডে যুক্ত আশুগঞ্জের ৪০০ মেগাওয়াট

বিদ্যুতের সুসংবাদ আশুগঞ্জ ও রামপাল। এসব স্থান থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ। তাতে শীম মৌসুমে যে ভয় ছিল তা অনেকটা কেটে যাবে। এই দুটি কেন্দ্র থেকে যথাক্রমে ৪০০ ও ৬৬০ মেগাওয়াট অর্থাৎ এক হাজার ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। গত শনিবার রাতে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়, দেশের জাতীয় গ্রিডে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিএল) নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে।

গত শনিবার থেকে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে আরও কয়েকটি প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। চলতি বছরের জুন মাসের শেষের দিকে এপিএসসিএল নতুন নির্মিত চারশ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট (ইস্ট) থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হলেও পর্যায়ক্রমে তা বাড়তে থাকে।

বর্তমানে এপিএসসিএলের চলমান ছয়টি ইউনিট থেকে দৈনিক ১ হাজার ২৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যে অধিক গ্যাস ব্যবহারকারী ছোট ইউনিটগুলোর পরিবর্তে বৃহৎ ইউনিট স্থাপনের কাজ হাতে নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির সভায় কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট (ইস্ট) নামে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  দেশের সব জেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের দাবি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ বিনিয়োগে এটির নির্মাণ কাজ পায় চায়না ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন এবং চায়না ন্যাশনাল কর্পোরেশন ফর ওভারসিজ ইকোনমিকস কো-অপারেশন কনস্ট্রাকশন। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ১৮০ দশমিক ৩২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যাচ্ছে রামপাল

রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে আবারও পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। গতকাল রবিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা নাগাদ সর্বোচ্চ সক্ষমতায় ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে আসে। আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা রয়েছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের।

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘গত ২৪ নভেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে রামপালের মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আবারও পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সঞ্চালন লাইনে দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল রবিবার নাগাদ ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় সর্বোচ্চ ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারে।’

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক সুভাষ চন্দ্র পান্ডে বলেন, ‘পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যায়ক্রমে বাড়ছে। সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম দিকে প্রথম ইউনিটের ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খুলনা অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন