শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাপ বাড়লো ক্রেতার

চাপ বাড়লো ক্রেতার
  • ঊর্ধ্বমুখী সূচক, বেড়ে গেল লেনদেন
  • সেরা ডিএসইতে জেনেক্স ইনফোসিস
  • ডিএসইতেসব ধরনের সূচক উত্থান

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বৃহস্পতিবার সব ধরনের সূচক উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) একটি বাদে বাকি চার ধরনের সূচক উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। লেনদেন পরিমাণ ডিএসইতে বাড়লেও সিএসইতে কমেছে। ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে সাড়ে ৫শ কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছে। ক্রেতার পরিমাণ দুই স্টকেই বেড়েছে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবারও ফ্লোর প্রাইজের কারণে ডিএসইতে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর অপরিবর্তিত ছিল। এদিন ক্রেতার চাপ বেশি ছিল। ক্রেতার চাপের একই অবস্থা ছিল সিএসইতে।

আরও বলেন, সরকারের নতুন সময় সূচির প্রথম কার্যদিবস ডিএসইতে গত ২৪ আগস্ট পতন হয়েছিল। যা আগের টানা ছয় কার্যদিবস উত্থানের পর এই মন্দা। পতন পরের দুই কার্যদিবস (বৃহস্পতিবার ও রবিবার) উত্থানে ছিল পুঁজিবাজার। ওইসময় লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিলো। পরের দিন সোমবার লেনদেনে ভাটা পড়ে। সেখান থেকে পরের দুই কার্যদিবস লেনদেন কিছুটা বাড়ে। পরেরদিন লেনদেন আবারো কমে। এরপরের কার্যদিবস লেনদেন বেড়ে ২৩শ কোটি টাকায় ওঠেছিল। পরে জোয়ার-ভাটায় চলে পুঁজিবাজারের লেনদেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর লেনদেন বছরের সেরা রেকর্ড করেছিলো। ওইদিন লেনদেন ২৮শ কোটি টাকা এসেছিলো। পরে ফের জোয়ার-ভাটায় পড়ে লেনদেন। এরই ধারায় গতকাল লেনদেন ৫৫২ কোটি টাকায় এসেছে।

স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্র মতে, গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ৫৫২ কোটি ১৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবস গত বুধবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৪৬৮ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১২ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৬৫ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৮ দশমিক ২৫ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ৭ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ১৯৯ দশমিক ৯১ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৩৬৪ দশমিক ১৮ পয়েন্টে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সিঙ্গাপুর

গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১৩টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৪৭টি এবং কমেছে ৪২টির। শেয়ার পরিবর্তন হয়নি ২২৪টির। এদিন ডিএসইতে জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন জেনেক্স ইনফোসিস ৪৭ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা এদিন অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওরিয়ন ফার্মা ৩৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, বসুন্ধরা পেপার ৩৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, নাভানা ফার্মা ২৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, ইস্টার্ন হাউজিং ২০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ১৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, সামিট এলায়েন্স পোর্ট ১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, লার্ফাজ-হোল্ডসিম ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা, পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং আমরা নেট ১১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

অপরদিকে, সিএসইতে বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা শেয়ার। আগের কার্যদিবস বুধবার ৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৪৭টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৪২টি, কমেছে ২২টি এবং পরিবর্তন হয়নি ৮৩টির।

এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৮ দশমিক ১১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪৯২ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ১ দশমিক ৪১ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক দশমিক ৪৯ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৩ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩২২ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ২৪৪ দশমিক ১৯ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৬৭ দশমিক ২২ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসসিএক্স সূচক ১১ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে  ১১ হাজার ৮১ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে।

আরও পড়ুনঃ  আম্পানের তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু

এদিন সিএসইতে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ১ কোটি ৫৬ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা এদিন অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে জেনেক্স ইনফোসিস ৮৯ লাখ টাকা, স্কয়ার ফার্মা ৮৮ লাখ টাকা, ইস্টার্ন হাউজিং ৫৩ লাখ টাকা, নাভানা ফার্মা ৪০ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ৩৬ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ২৭ লাখ টাকা, লার্ফাজ-হোল্ডসিম ২৬ লাখ টাকা, বসুন্ধরা পেপার ১৭ লাখ টাকা এবং পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন