রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শুল্ক সুবিধায় চামড়াপণ্যের বিকাশ

শুল্ক সুবিধায় চামড়াপণ্যের বিকাশ
  • পাদুকাশিল্পের প্রসারে শুল্ক সুবিধা চায় এলএফএমইএবি
  • করহার পাঁচ বছরের জন্য ০.৫ শতাংশ করার দাবি

চামড়াজাত পণ্যর কারখানাগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারকরণে সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদির বিকল্প নেই। তাই পোশাক তৈরি শিল্পের ন্যায় চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা খাতেও ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ, মালামাল রাখার তাক, অগ্নি-বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা সরঞ্জামসহ আর্দ্রতা নিরোধক যন্ত্রে শুল্ক রেয়াতের সুবিধা চাচ্ছে লেদারগুডস এন্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফাকচারারস এন্ড এক্সপোর্টারস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি)। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেয়ার এক প্রেস বিজ্ঞতিতে প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় এলএফএমইএবির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাসির মঞ্জুর এ তথ্য জানান। এসময় চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্প খাতের বিকাশে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেন।

প্রেস বিজ্ঞতিতে সৈয়দ নাসির মঞ্জুর জানান, দীর্ঘদিন ধরে চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্প খাতের রপ্তানিকারকদের জন্যে বিদ্যমান করপোরেট করহার বস্ত্র খাতের অনুরূপ করা আবেদন করে আসছে। প্রস্তাবিত বাজেটে পণ্য ও সেবা রপ্তানিকারকসহ অন্যান্য সাধারণ শিল্পের জন্য ১২ শতাংশ এবং পণ্য সেবা রপ্তানিকারী অন্যান্য সবুজশিল্পের জন্য ১০ শতাংশ কর প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

বিজ্ঞতিতে আরও জানান, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্প খাতের কর্মসস্থান ধরে রাখা এবং জাতীয় ও আন্তজার্তিক পর্যায়ে রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এলএফএমইএবির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বাজেটে বেশকিছু সংযুক্ত জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এসব দাবিগুলো হলো- রপ্তানি আয়ের উৎসে কর যৌক্তিকভাবে স্থিতিশীল রাখা। স্থিতিশীল কর নীতির অংশ হিসেবে বিদ্যমান করহার আগামী পাঁচ বছরের জন্য দশমিক ৫ শতাংশ নিদিষ্ট করা; মেশিনের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ, কারখানার প্রস্তুতকৃত মালামাল রাখার তাক, কারখানার অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সরঞ্জাম এবং আদ্রতা নিরোধক যন্ত্র ইত্যাদি আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ রাখার সুবিধা; এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা, বৈদেশিক মুদ্রা একাউন্ট থেকে টিটির ক্ষেত্রে এ/সিতে শতভাগ রপ্তানিকারকদের জন্য ভ্যাট-শুল্ক মুক্ত; আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।

আরও পড়ুনঃ  'ক্ষতি পোষাতে' বেচা-বিক্রির সময় বাড়াতে চায় ব্যবসায়ীরা

প্রসঙ্গত, ‌বি‌শ্বের অন্যান্য দে‌শের মতো সমমা‌নের পণ্য তৈ‌রি ক‌রেও রপ্তা‌নি‌তে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দাম কম পাচ্ছে দেশীয় উৎপাদনকারীরা। কমপ্লায়েন্সের অভাব দে‌খি‌য়ে মূল্য কম দি‌চ্ছে আন্তর্জা‌তিক ক্রেতা প্র‌তিষ্ঠানগু‌লো। এমন প‌রি‌স্থি‌তি‌তে চামড়া শি‌ল্পের প্রধান সমস্যা হিসা‌বে কমপ্লায়েন্সের অভাব‌কে চি‌হ্নিত ক‌রে‌ছে খাত সংশ্লিষ্টরা।

গত ৩১ মে দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন, অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্ট্রিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক ওয়েবিনারের বক্তারা এ ব্যাপারে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেছেন। ট্যানারি শিল্পে করোনার প্রভাব বিষয়ে র‌্যাপিড একটি গবেষণা করেছে। ওয়েবিনারে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।

সেই ওয়েবিনারে মতামত তুলে ধরে বলা হয়, কমপ্লায়েন্সের অভাবে এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য দাম কম পাচ্ছে। আবার স্থানীয় বাজারেও চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় সম্ভব যদি এ খাতের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা যায়। তাই শিল্প মন্ত্রণালয়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে চামড়া খাত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

ওয়েবিনারে যুক্ত হওয়া শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেছেন, চামড়া খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ঠিকমত পরিচর্চা ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মান নিশ্চিত করতে পারলে এ খাত থেকে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন রপ্তানি আয় সম্ভব। কিন্তু এ খাতে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ইউরোপিয়ান, ইতালিয়ান ও ভারতীয় কোম্পানি আসছে। কিন্তু কারোর কাছ থেকে সমাধানের ভালো প্রকল্প পাওয়া যাচ্ছে না। চামড়ার নায্যমূল্য নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ। কোরবানির সময় চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা সে দাম পান না।

আরও পড়ুনঃ  অক্টোবরে বেড়েছে দেশের বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি হার

সেই ওয়েবিনারের আগে ২০ মে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে বিপ্লবী পাদুকা শ্রমিক সংহতির মে দিবসের আলোচনা সভায় পাদুকা শ্রমিক ও পাদুকা শিল্প বাঁচাতে জাতীয় বাজেটে বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছিলেন, বিশাল সম্ভাবনাময় এই খাত এখনও অবহেলিত। রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা ও সহযোগিতা পেলে পাদুকা শিল্পখাত জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন