শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চারণভূমি ঢাকছে ধুধু বালিতে

চারণভূমি ঢাকছে ধুধু বালিতে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে চরাঞ্চলের জমি অধিগ্রহণের কারণে চরমভাবে হুমকির মুখে ১০ হাজার মহিষের চারণভূমি। মহিষ, গরুসহ গবাদী পশুর চারণভূমি রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন তিন শতাধিক খামারি। গত ১১ জুন বঙ্গবন্ধু শিল্পাঞ্চলের বেজা অফিসের সামনে তারা বিক্ষোভ করেন। সমস্যা সমাধানের জন্য সেখানে গিয়ে খামারিদের সঙ্গে কথা বলেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান, ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তাফা।

খামারি সাইফুল ইসলাম, রবি বলি, বাবুল সওদাগর জানান, ইছাখালী, মিঠানালা, মঘাদিয়া, ওসমানপুর, সাহেরখালী ইউনিয়নের খামারিদের পালিত গরু-মষিহসহ গবাধিপশু বছরের পর বছর চরাঞ্চলে বেড়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর হওয়ার পর জমি অধিগ্রহণের ফলে পশুচারণ ভূমি নেই বললেই চলে। এতে পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এখানকার খামারিরা। এখন কিছু চরে পশুগুলো গেলে বনবিভাগ পশু চারণে বাধা দিচ্ছে এবং মহিষ-গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তারা।

খামারি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা বাপ দাদার আমল থেকে পশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। এখন যদি পশু পালননের স্থান না থাকে তাহলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। প্রায় ১০ হাজার গরু মহিষ নিয়ে আমরা কোথায় যাবো? খামারি রবি ও বাবুল বলেন, এতদিন যে চরাঞ্চল ছিলো সবুজ ঘাসে ভরপুর, গরু-মহিষের চারণভূমি, সেখানে গড়ে উঠছে ভারী শিল্প। এতে পশুপালনের ভূমি আর থাকছে না।

মিরসরাইয়ের উপকূলীয় চরাঞ্চল ছিলো গবাদি পশুর উর্বর চারণভূমি। উপযুক্ত চারণভুমি থাকার সুবাদে অন্যতম অর্থকরী সম্পদের মধ্যে মহিষ ছিলো অন্যতম। চরাঞ্চলের জমি অধিগ্রহণের কারণে চরমভাবে হুমকির মুখে গবাদিপশুর চারণভূমি। এতে ভয়ানক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় গরু-মহিষ পালনকারীরা। এখানকার অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর একমাত্র পেশা গরু-মহিষ পালন।

আরও পড়ুনঃ  কৃষকদের ৯৮ কোটি টাকার সহায়তা দিবে সরকার

এলাকার বাসিন্দা মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, চরাঞ্চলের মহিষের দুধ থেকে উৎপাদিত দইয়ের জনপ্রিয়তা সমগ্র চট্টগ্রামজুড়ে। মহিষের দুধ ও দই বিক্রি করে সংসার চালায় চরাঞ্চলের মহিষ পালনকারীরা। এসব মহিষ সারাদিন চরে বেড়ায় ইছাখালী ও চরশরৎ এলাকার উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বাগানগুলোতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট ছোট দু’একটা মহিষের পাল খাবারের খোঁজে ধু ধু বালিতে চরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সেখানে নেই কোনো সবুজ ঘাস। নেই গা ভিজিয়ে ডুবে থাকার মতো পানি। এ যেন ধু ধু মরুভুমি। খাবারের খোঁজে হাঁটতে হাঁটতে হাঁপাচ্ছে মহিষের দলগুলো। এতদিন যেসব পতিত ভূমি ছিলো মহিষদের স্বর্গ, এখান সেখানে ধু ধু বালুচর। যে চরাঞ্চল ছিলো সবুজ ঘাসে ভরপুর সেখানে গড়ে উঠছে ভারী শিল্প। যার ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে খামারিদের।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ফলে তার থেকে যে দেশীয় আয় আসবে তা পশু পালন থেকে কয়েকশত গুণ বেশি হবে। তবে এ কথাও সত্য যে দেশীয় আয় বৃদ্ধি পেলেও হ্রাস পাবে স্থানীয় আয়। যে সব মহিষ পালনকারী পালে পালে মহিষ পালন করতেন তাদের পেশা হুমকির মুখে পড়েছে। আজ আমি ওই এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বনবিভাগ যদি তাদের জায়গায় পশু বিচরণের বাধা দেয় তাহলে কিছু করার নেই। আমি খামারিদের সরকারি খাস জমি দেখতে বলেছি, সেখানে পশু চারণের ব্যবস্থা করা হবে।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন