শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নষ্ট হচ্ছে দ্বীপের সৌন্দর্য

নষ্ট হচ্ছে দ্বীপের সৌন্দর্য
  • ঈদ উৎসবে পর্যটনমুখর ‘জাহাজমারা’ 

দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। বিস্তীর্ণ জলরাশি, আর সবুজ বনাঞ্চল। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ। প্রাকৃতিক এমন সৌন্দর্য্যরে টানে সাগরকন্যাখ্যাত পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জাহাজমারা দ্বীপে ছুটে আসছে ভ্রমণপিয়াসুরা। তবে অব্যবস্থাপনার কারণে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় দ্বীপটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে; বলছেন সচেতন পর্যটকরা। তবে এসব দেখার যেন কেউই নেই। অনেকটাই অভিভাবকহীন পর্যটন এ স্পট।

জানা যায়, ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে শুধু স্থানীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জাহাজমারায় এসেছে হাজারও ভ্রমণপিয়াসু পর্যটক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ উৎসব উপলক্ষে সৈকতে ভিড় বেড়েছে পর্যটকদের। পর্যটনমুখর হয়ে ওঠেছে দ্বীপটি। শনিবার পর্যন্ত ১০-১৫ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে জাহাজমারায়। তবে ঈদের আমেজ কমলে অথবা ঝড়-বৃষ্টি হলেই পর্যটক শূণ্য হয়ে যাবে গোটা দ্বীপটি। এমনটাই ধারণা করছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা।

শুক্র ও শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈকতে কেউ এসেছে পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ এসেছে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে। তাদের হৈ-হুল্লোড়ে মেতে উঠেছে দ্বীপটি। ফিরে পেয়েছে করোনায় স্থবির হয়ে যাওয়া সৈকতের প্রাণ। তাইতো কেউ কেউ মুক্তবাতাসে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করছে। কেউ ঢেউয়ের স্পর্শে সৈকতে দু’পা ভিজিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে চাইছে। কেউবা সমুদ্র স্নানে মেতে ওঠেছে। গান-বাজনার তালে তালে চলছে কারও কারও বনভোজন।

তবে অব্যবস্থাপনার কারণে দিনদিন জাহাজমারা সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন পর্যটকরা। তাদের অভিযোগ, সি-বিচ ও সৈকতে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা। জাহাজমারা সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে, সৈকতের নিঃসর্গ পয়েন্টের বিচজুড়ে প্লাস্টিকের বোতল, চিপস্-চানাচুরের প্যাকেট ও নাড়িকেলের ছোলা পড়ে আছে। পর্যটকরা যেখানে, সেখানে এগুলো ফেলছেন। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে সৌন্দর্য, অন্যদিকে দূষিত হচ্ছে সেখানকার পরিবেশ। 

আরও পড়ুনঃ  মহামন্দার দ্বারপ্রান্তে বৈশ্বিক অর্থনীতি : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জাহাজমারা সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বলছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা জাহাজমারা সৈকতে এসে তারা মনোমুগ্ধ। তারা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে এটি অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পটে পরিণত হবে। এর সৌন্দর্যের টানে প্রকৃতি প্রেমীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুঁটে আসবে। সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটক রওশন আহম্মেদ  মৃধা বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে পর্যটক আরও বাড়বে এখানে। বিশেষ করে চরগঙ্গা থেকে জাহাজমারা পর্যন্ত কাচা প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ খুবই প্রয়োজন।’

তবে সৈকতে ঘুরতে আসা সচেতন পর্যটকদের কেউ কেউ এখানকার অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলায় দ্বীপটির সৌন্দর্য নষ্ট হবে। এনিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে সাব্বির হোসাইন নামের এক পর্যটক বলেন, ‘এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান কিংবা ডাস্টবিন প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের এদিকে নজর দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

মৌডুবি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান রাসেল বলেন, ‘আমাদের নিজ উদ্যোগে পর্যটকদের নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক আমরা সেখানকার খোঁজখবর রাখছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘জাহাজমারা সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় কি করা যায়, তা আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন