ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধুঁকে ধুঁকে চলছে পুঁজিবাজার

দীর্ঘদিন থেকে অস্বস্তিতে রয়েছে পুঁজিবাজারের সার্বিক অবস্থা। বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াই একযোগে কমছে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট দর। ফলে বাজার তার স্বরূপে ফিরতে পারছে না। যার জন্য ধুঁকে ধুঁকে চলছে  পুঁজিবাজার।

গতকাল (১১ ডিসেম্বর) এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানের আলোচনায় এসব কথা ওঠে আসে। খুজিস্তা নুর-ই-নাহারিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ফজলুল বারী এবং এএফপির ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম।

সাংবাদিক ফজলুল বারী বলেন, অনেক দিন ধরেই পুঁজিবাজার ধুঁকে ধুঁকে চলছে। বিভিন্ন কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। বিনিয়োগকারী উদ্বিগ্ন হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ কারণ এসব বিনিয়োগকারী বেশিরভাগই ক্ষতিগ্রস্ত। যদি তাদের পোর্টফোলিও দেখেন সেখানে দেখা যাবে দু-একজন ছাড়া  বাকি সবাই পোর্টফোলিও নেগেটিফ। তাদের বিনিয়োগ করা অর্থ চলে যাচ্ছে। এমনকি ধার করা অর্থও চলে যাচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতে সূচক ছয় হাজারের উপরে ছিল। এখন  তা সাড়ে চার হাজারে নেমে এসেছে। এভাবে বাজার চলতে পারে না। বাজারকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। তবে এ অবস্থা থেকেও বাজার ভালো করা এখনও সুযোগ আছে।

যদি বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনুন, বাজারের কয়েকজন দুষ্টুচক্রদের কঠোর শাস্তি দেন এবংযে অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে সেগুলো আনার চেষ্টা করুন। তাহলেই দেখবেন বাজার স্থিতিশীল অবস্থানে চলে আসবে।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে সাধারণ বিনিয়োগকারী। কিন্তু আজ তারই পুঁজি সর্বহারা। এখন তাদের বাঁচাতে হবে। সেক্ষেত্রে কিছু প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। যাতে করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে। এছাড়া বাজারকে প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে।

২০১০ সালের পর বাজারে প্রায় ১০০টি কোম্পানি এসেছে। এ হিসেবে বাজারের সূচক ১০ হাজার হওয়ার কথা। কিন্তু তার চিত্র বিপরীত দেখা যাচ্ছে। আবার যখন কোনো কোম্পানি জেড ক্যাটেগরিতে নেওয়া হয়। কী কারণে কোম্পানিটি জেড ক্যাটেগরিতে দেওয়া হলো সে ব্যাপারে বিএসইসি ও ডিএসই তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয় হয়নি। শুধু ক্যাটেগরি পরিবর্তন করে দায় সারা বিচার করেছেন।

শফিকুল আলম বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে দেশের অর্থনীতির সূচকগুলো তেমন ভালো নয়। একমাত্র রেমিট্যান্স ছাড়া সবাই নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। এর একটা প্রতিফলন পুঁজিবাজারে দেখা যাচ্ছে। আবার সরকারের তথ্য অনুযায়ী জিডিপির গ্রোথ আট দশমিক দুই শতাংশ।

কিন্তু এর প্রভাব বাজারে দেখা যাচ্ছে না। গত ১০ বছরে যেসব কোম্পানি বাজারে আসছে, এসব কোম্পানির মধ্যে অনেক কোম্পানির শেয়ারদর ফেসভ্যালুর নিচে রয়েছে। আসলে এসব কোম্পানিতে বড় ধরনের কারসাজি করা হয়েছে। এখন এগুলো বাজারের জন্য একটি নেতিবাচক অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এখন দ্রুত কিছু ভালো কোম্পানি বাজারে আনা দরকার।

সুত্রঃ শেয়ার বিজ

 

আনন্দবাজার/এম.কে

সংবাদটি শেয়ার করুন