ঢাকা | রবিবার
১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুলিশে চাকরি পেলো মিম

পুলিশে চাকরি পেলো মিম

পুলিশ কনস্টেবলের পরীক্ষায় সাধারণ নারী কোটায় মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছিলেন মিম আক্তার। তবে জমি না থাকায় চাকুরি পাচ্ছিলেন না মিম। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে পুলিশে চাকরি নিশ্চিত হয়েছে তার। ইতোমধ্যে পুলিশ কনস্টেবল পদে ট্রেনিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছে মিমকে।

বিষয়টি গতকাল শনিবার নিশ্চিত করেছেন খুলনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর আহম্মেদ। এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর খুলনা টেক্সটাইল মিল পুলিশ ফাঁড়ি থেকে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিকাইল প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের নোটিশ মিমের হাতে তুলে দেন। নোটিশে আগামী ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় খুলনার পুরাতন পুলিশ লাইন্সের রিজার্ভ অফিস এবং পরের দিন (৩০ ডিসেম্বর) রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে তাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা তৃতীয় ফেজের ১ নম্বর সড়কের ভেতরে ডা. বাবর আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকেন মিমরা। মা আছিয়া খাতুন গৃহিনী। মিমরা ৪ বোন। ২০১৯ সালে নগরীর পিডব্লিউডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৪ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট পেয়ে এসএসসি পাশ করেন মিম। খুলনা সরকারি মহিলা উচ্চবিদ্যালয় থেকে চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। সূত্র মতে, নারী কোটায় কনস্টেবল পদে আবেদন করে লিখিত পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম হন মিম আক্তার। কিন্তু শহরে তার স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় মেধা তালিকায় প্রথম হলেও চাকরিটি তাকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে ১১ ডিসেম্বর খুলনার পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে মিমকে জানিয়ে দেওয়া হয়। অপ্রত্যাশিত এ খবরে মিমের পরিবারের দুশ্চিন্তা ভর করে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন মিম। মিমকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করে পুলিশ বিভাগ। পাশে দাঁড়ান খুলনা জেলা প্রশাসকও।

খুলনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর আহম্মেদ জানান, পুলিশ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে সাধারণ নারী কোটায় মেধা তালিকায় প্রথম হয় মিম আক্তার। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। আমরা ঘটনাটি পুলিশ হেড কোয়ার্টারকে জানাই। অবশেষে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশনায় মিমের আবেদন আমরা গ্রহণ করেছি। ট্রেনিংয়ের জন্য মিমকে ডাকা হয়েছে। ট্রেনিং শেষে মিমকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র প্রদান করা হবে।

প্রসঙ্গত, স্থায়ী জমি না থাকার খবরে ১৩ ডিসেম্বর খুলনা জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার মিম ও তার বাবা রবিউল ইসলামকে ডেকে নিয়ে কাগজপত্র দেখেন। ওই সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা যেটা শুনেছি, তার স্থায়ী ঠিকানা নেই, এ কারণে সে চাকরি পাচ্ছে না। আমরা খবর নিয়ে দেখলাম তার ঘর নেই এবং জমি নেই। যাদের ঘর নেই এবং জমি নেই, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে যে আশ্রায়ন প্রকল্প আছে, সেখান থেকে তাদেরকে পুনর্বাসন করার সুযোগ আছে। আমরা ওই প্রকল্পের আওতায় তাদেরকে ঘর করে দিব’।

আনন্দবাজার/এম.আর

সংবাদটি শেয়ার করুন