ঢাকা | সোমবার
২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তরুণদের ‘সোনার হরিণ’ খুচরা ব্যবসা

  • কর্মসংস্থান ৬০ লাখ, হতে আরো বেশি
  • পরিবর্তন করতে হবে অভিভাবকদের মানসিকতা
  • সরকারের জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন

দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশেষ করে যারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েই চাকরির পেছনে ছুটতে শুরু করেন। চাকরির বাজারের আকার ছোট হওয়ায় ছিটকে পড়ছেন বেশিরভাগ তরুণ। তবে দেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণরা সরকারি কিংবা ব্যাংকে চাকরির পেছনে না ছুটে বিকল্পভাবেও কর্মসংস্থান করতে পারেন।

এক্ষেত্রে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসা। দেশে খুচরা ব্যবসায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরাও। যদিও অভিভাবকদের চাপে তরুণরা এসব পেশায় আসায় উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। এ কারণে খুচরা ব্যবসায় নারী বিক্রয়কর্মীর অংশগ্রহণও নগণ্য দেখা যায়। যে কারণে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও বিকশিত হচ্ছে না খুচরা ব্যবসা খাত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিকতার বদল ঘটালেই দেশে ‘খুচরা খাতে যুব কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি’ পাবে। এতে বিপুল বেকার তরুণ জনগোষ্ঠী যেমন উপকৃত হবেন তেমনি বেকারের চাপ কমতে থাকবে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সংলাপে এমনটা বলছেন ব্যবসা খাতের উদ্যোক্তারা। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির (এসডিপি) আওতায় এ সংলাপে বক্তারা বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের জিডিপিতে খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অবদান ৮ থেকে ১০ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে এ খাতের ওপর সরকারের নজর কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুচরা ব্যবসায় কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের মনোযোগের পাশাপাশি অভিভাবকদের মানসিকতা পরিবর্তন করা জরুরি। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল, খুচরা ব্যবসায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল বাড়ানো। একই সঙ্গে এ পেশায় নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো।

সংলাপে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে একটা মনোভাব তৈরি হয়েছে- তারা হয় সরকারি চাকরি করবেন, না পেলে মা–বাবার কাছে বসে বসে খাবেন। খুচরা ব্যবসা খাতে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ সংখ্যা আরও অনেক বাড়ানোর সুযোগ আছে। তিনি বলেন, খুচরা খাতে নারীদের প্রশিক্ষণ অবশ্যই প্রয়োজন। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রচারমূলক কার্যক্রম নেই। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, দেশে উচ্চশিক্ষিতদের ১২ শতাংশ বেকার। অথচ এরা চাইলে খুচরা ব্যবসায় আসতে পারেন। কিন্তু পরিবারের চাপে আসতে তারা পারেন না। অভিভাবকেরা চান, তাদের সন্তান বিসিএস দেবে অথবা ব্যাংকে চাকরি করবেন। তিনি বলেন, খুচরা ব্যবসায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি।

সুপারশপ স্বপ্নের বাণিজ্যবিষয়ক পরিচালক সোহেল তানভীর খান বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশ নারী কর্মী নেব, এটা আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু আমরা পাই না। যারা কাজ করছেন, তাঁরা ভালো করছেন।’ এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সহযোগিতায় দেশের প্রথম স্বীকৃত খুচরা বিক্রয় প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করেছে ব্র্যাক এসডিপি। বর্তমানে এই মডিউলের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

আনন্দবাজার/শহক

সংবাদটি শেয়ার করুন