শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১০ বছরের চেষ্টায় পাহাড়ের খাঁজে মিলল গুপ্তধন!

উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতমালায় মিলেছে সত্যিকারের গুপ্তধন। দীর্ঘ ১০ বছর খোঁজ চালানোর পর রকিপর্বতমালায় পাওয়া গেছে এই গুপ্তধন।

আর্ট ডিলার ফরেস্ট ফেন (৮৯) ভিয়েতনামের যুদ্ধে বিমানচালক ছিলেন। তিনি রকি পর্বতমালায় ১০ বছর পূর্বে গুপ্তধন থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, খেয়ালের বশে সেখানে পুঁতে রেখেছেন স্বর্ণ মুদ্রা এবং মূল্যবান জিনিস ভর্তি সিন্দুক। নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে এবং কানাডার সীমান্তের কাছে হাজার মাইল দূরত্বের মধ্যেই রকি পর্বতমালায় আছে এই গুপ্তধন।

২০১০ সালে এখানেই গুপ্তধন রেখেছেন বলে জানিয়েছিলেন ফেন। তিনি নিজের বায়োগ্রাফি ‘দ্য থ্রিল অফ দ্য চেস’-এ ২৪ লাইনের একটি কবিতা লিখেছিলেন। সেই কবিতার মধ্যেই এই গুপ্তধন উদ্ধারের রহস্য সমাধানের ইঙ্গিত ছিল। দশ বছরে কেউ তা খুঁজে পায়নি। ২০১৬ সালে ফেন বলেছিলেন, তিনি ও তার স্ত্রী শুধু জানেন রকি পর্বতের কোন দিকে আছে এই গুপ্তধন। তিনি মারা যাওয়ার সাথে সাথেই গুপ্তধনও প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাবে।

নিজের বাড়িতেও প্রত্নতত্বের সংগ্রহশালা আছে ফেনের। ১৯৮৮ সালে তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। একটা সময় মদ আর অসংখ্য ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্যান্সার জয় করে নতুন করে নিজের বিপুল ধনসম্পদ লুকিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করতে থাকেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত পুঁতে রাখা সেই গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছেন একজন। গত রোববার (০৭ জুন) নিজের ওয়েবসাইটে সেই গুপ্তধন খুঁজে পাওয়ার কথা ঘোষণা করেন ফেন। যদিও কে সেই গুপ্তধন খুঁজে বের করলেন তার নাম জানাননি তিনি। কেননা যিনি তা খুঁজে বের করেছেন, নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি মিডিয়াকে তার পরিচয় জানাতে চান না।

আরও পড়ুনঃ  মদ পানে কেটে যায় করোনা: রাশিয়া

ফেন বলেন, তার লেখা কবিতার সূত্র ধরেই রকি পর্বতমালার বুকে উদ্ধার হয়েছে সোনা-রুপো-মণি-মাণিক্য। এতে প্রায় ১০ লক্ষ ডলারের স্বর্ণমুদ্রা, গয়না, চোখ ধাঁধানো সব সম্পদ। গুপ্তধন পাওয়ার প্রমাণ হিসেবে ওই ব্যক্তি ফেনকে উদ্ধার হওয়া গুপ্তধনের ছবি তুলে পাঠিয়েছেন। তা দেখেই গুপ্তধন উদ্ধারের কথা ঘোষণা করেছেন ফেন।

তবে সাড়ে তিন লক্ষের বেশি মানুষ এই গুপ্তধনের সন্ধানে দশ বছর ধরে ঘুরছেন। অনেকেই তার গুপ্তধন খোঁজার জন্য চাকরি ছেড়েছেন। চারজন মারাও গিয়েছেন গুপ্তধনের সন্ধান করতে গিয়ে। শেষ পর্যন্ত তা খুঁজে পাওয়া গেল। উদ্ধারকারীকে তিনি শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।

আনন্দবাজার/এফআইবি

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন