ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার কঠোর পদক্ষেপ: ডয়চে ভেলেকে কার্যক্রমে বাধা অবাঞ্ছিত ঘোষণা

রাশিয়া জার্মানির আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে (DW) ‘অবাঞ্ছিত সংস্থা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, যার ফলে দেশটির ভেতরে তাদের কার্যক্রম কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে গেল। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে রাশিয়ায় স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ আরও বাড়ল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

রাশিয়ার পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক বৈদেশিক হস্তক্ষেপ তদন্ত কমিশনের প্রধান ভ্যাসিলি পিস্কারেভ ডয়চে ভেলেকে রুশ-বিরোধী ‘শত্রুতামূলক প্রচারণার প্রধান ক্ষেত্র’ হিসেবে আখ্যা দেন। তার বক্তব্যের পরই মঙ্গলবার রাশিয়ার বিচার মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নথিতে ডয়চে ভেলের নাম যুক্ত করা হয়।

পিস্কারেভ জানান, ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণার অর্থ হলো ডয়চে ভেলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। রাশিয়ার আইন অনুযায়ী, এমন কার্যক্রমে অর্থায়নের দায়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত এবং তা সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ছয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে জার্মান সরকার। ডয়চে ভেলে জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টেফান কর্নেলিয়াসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানায়, এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে রুশ নেতৃত্ব স্বাধীন তথ্যকে বিশেষ করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চালানো আগ্রাসী যুদ্ধ সংক্রান্ত সংবাদকে ভয় পায়।

জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসও মন্তব্য করেছে, রাশিয়ায় এখন আর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত নেই। তারা একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করেছে।

ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার দর্শকরা বিকল্প ব্রাউজার বা ভিপিএন ব্যবহার করে এখনও তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবেন। চলতি বছরে ডয়চে ভেলের রুশ ভাষার কনটেন্ট প্রতি সপ্তাহে প্রায় এক কোটি দর্শক দেখেছে, যার বড় অংশ ছিল ভিডিও।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্রেমলিন বা যুদ্ধনীতির সমালোচনাকারী বহু সংগঠন ও গণমাধ্যমকে রাশিয়ার বিচার মন্ত্রণালয় ‘অবাঞ্ছিত’ আখ্যা দিয়ে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে।

এই ঘোষণার সময়টি নিয়েও কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। গত শুক্রবার জার্মানি অভিযোগ তোলে যে, রাশিয়া তাদের বিমান ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সাইবার হামলা চালিয়েছে এবং আগামী ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের আগে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। রাশিয়া অবশ্য এসব অভিযোগকে ‘অবান্তর’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করেছে।

এর মধ্যেই সোমবার জার্মানির নিম্ন কক্ষ বুন্ডেস্ট্যাগে বড় ধরনের ইমেল বিভ্রাট দেখা দেয়, যার জন্য জার্মান কর্মকর্তারা একটি রুশ সাইবার হামলাকে দায়ী করেন যা বার্লিন ও মস্কোর মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন