সোমবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুবি’র গায়ে শরতের শুভ্র শাড়ি

ইমতিয়াজ হাসান রিফাত

মহামারী এই ভাইরাসের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ প্রায় সাত মাস। নেই কোন শিক্ষার্থীর পদচারণ। থমকে আছে চারিপাশ। নিরব গান-বাজনায় মেতে থাকা মুক্তমঞ্চ। পিনপতন নিরবতায় একাকী পড়ে আছে। বাবুই চত্বরে নেই প্রেমিক-প্রেমিকার যুগল। কিন্তু থেমে নেই প্রকৃতি। প্রকৃতি তাঁর নিজস্ব নিয়মেই চলছে। বর্ষা গড়িয়ে শরৎ। প্রকৃতির সেই নিয়মেই লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সেঁজেছে শরতের ছোঁয়ায় এক নতুন সাঁজে।

পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ক্যাম্পাসের সব ভবন । শরতের ছোঁয়ায় সেই পাহাড়ের বুক ছেঁয়ে আছে সাদা সাদা কাশফুলে । ভবনগুলোকে দিয়েছে এক নতুন রূপ।

জীবনানন্দ দাশ যেমন ‘এই পৃথিবীতে একস্থান আছে ‘ কবিতায় শীতের সরিষাফুলকে বলেছিলেন ” রূপসীর হলুদ শাড়ি “। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ের বুকের সেই সাদা সাদা কাশফুলকে বলা যায় “কুবি’র গায়ে শরতের শুভ্র শাড়ি ” । মৃদু বাতাসে দোলা কাশফুল ছড়িয়ে দেয় একরাশ মুগ্ধতা।

কিছু কিছু প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষার্থীরা দেশের এই ক্রান্তিলগ্নেও ছুটে যাচ্ছে আপন ক্যাম্পাসের নতুন সাঁজ দেখতে । কাছ থেকে আসা পর্যটকরা হারাচ্ছে না কুবি’র নতুন রূপ দেখার সুযোগ।

প্রধান ফটক থেকে দীর্ঘ রাস্তা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে । রাস্তার দুইপাশে সবুজবীথি কৃষ্ণচূড়ার।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে চোখে পড়ে শুধু কাশফুল৷ শহীদ মিনারের পাশ দিয়ে, সেন্ট্রাল মাঠের ধার ঘেঁষে, লালন চত্বরের পাহাড়ের বুকে ছড়িয়ে আছে শুভ্রতা। আকাশের মেঘেরা যেমন খেলা করে । বাতাসে কাশফুলগুলোও তেমন আকাশের মেঘের মত, সমুদ্রের ঢেউয়ের মত আছরে পরতে চায়।

আরও পড়ুনঃ  বশেমুরবিপ্রবির আরও এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রকৃতির লীলাভূমি। প্রকৃতির প্রতিটি নিয়ম মেনে চলে। বসন্তে কৃষ্ণচূড়া রোডে রক্তিম কৃষ্ণচূড়া, বর্ষায় ভেসে যায় লালমাটির পাহাড় বেয়ে রক্তিম বৃষ্টির পানি আর ক্যাম্পাস মুখরিত হয় কদমের সুভাসে। শরতে ছেঁয়ে আছে সাদা সাদা কাশফুলে৷

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন