সোমবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ক্লিন ছাড়াই ‘ক্লিন ক্যাম্পেইন’

ক্লিন ছাড়াই ‘ক্লিন ক্যাম্পেইন’

ক্যাম্পাস অপরিচ্ছন্ন রেখেই অভিযান শেষ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য তিনদিন ব্যাপী নামমাত্র ‘ক্লিন ক্যাম্পাস ক্যাম্পেইন’ পরিচালনা করা হয়। ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ট্রেজারার, প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পেইনের সার্বিক দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ উন্নয়ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদের।

গত ৭, ৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর তিনদিন ব্যাপী ‘ক্লিন ক্যাম্পাস ক্যাম্পেইন’  কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেছিল রেজিস্ট্রিশনকৃত ১৫০ জন শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীদের তিনটি দলে বিভক্ত করে। ৫০জন করে একটি সাবটিমে বিভক্ত করে যথাক্রমে ৭, ৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। তবে, ‘ক্লিন ক্যাম্পাস ক্যাম্পেইন’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও উল্লেখযোগ্য স্থানে জমে আছে ময়লার-আর্বজনার স্তূপ।

গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক (বিবিএ)ভবনের সিড়ি, ক্লাসরুম, লিফট, সেমিনার, সেমিনার, ওয়াশরুম পরিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্বের ময়লা-আর্বজনার স্তূপ আরও বড় স্তূপে পরিণত হয়েছে। ১নং লিফটের দিকে সিড়ির নিচে জমে আছে কাগজ, প্লাস্টিক ও ভাঙা চেয়ার ও লোহার বিভিন্ন খন্ড। এছাড়াও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ওয়াশরুমের কোনো অংশই পরিষ্কার করা হয় নি, দেওয়া হয়নি কোন জীবাণুনাশকের মেডিসিন। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন লাইব্রেরীতে আসা বই-প্রেমিরা।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে ‘ক্লিন ক্যাম্পাস ক্যাম্পেইন’ এর কার্যক্রম শেষ হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখা যায় নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের বোটানি বিভাগের পাশের ড্রেনটি এখনো বন্ধ হয়ে আছে কাগজ, বোতল, প্লাস্টিক ও গাছের পাতায়। রফিক ভবনের বাম দিকের ড্রেনও একই অবস্থা। কলা অনুষদের সামনে উন্মুক্ত লাইব্রেরীর পাশে জমে আছে পলিথিন ও কাগজের স্তূপ। ফলে সেখানে বসে পড়ার মতো মনোরম পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের কমনরুম ও শ্রেণিকক্ষগুলোও নামমাত্র পরিষ্কারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কমনরুমেও নাজেহাল অবস্থা। টিস্যু ও পেপারের স্তূপে তৈরি হচ্ছে দুর্গন্ধ।

আরও পড়ুনঃ  জাতির পিতার সমাধিতে বশেমুরবিপ্রবি’র নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রারের শ্রদ্ধা নিবেদন

কলা অনুষদে কাঁঠাল তলার পিছনের অংশে ময়লার স্তূপ দিনে দিনে পাহাড়ে পরিণত হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে মশার আশ্রয় ও উৎপাদন স্থল, দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে পথ চলা। ক্যাম্পাসের অধিকাংশ অংশই এরকম অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা ড্রেনকে রেখেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবারের ক্লিন ক্যাম্পেইন।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, শুধু নামমাত্র এ ক্যাম্পেইন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ অংশ আগের মতোই নোংরা পরিবেশেই আছে। শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণের সংখ্যা যথেষ্ট থাকলেও পরিকল্পনার যথেষ্ট  অভাব ছিল। এত ছোট ক্যাম্পাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন চাইলেই মনোরম পরিবেশে রাখতে পারে।

তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজের প্রতি উদাসীনতা ও দায়িত্ববোধের অভাবেই এসব ময়লার স্তূপ জমা হয়। নিয়মিত ডাস্টবিন পরিষ্কার করা হয় না। ফলে ময়লা রাখার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না পেয়ে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আর্বজনা।

এবিষয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমিটির একাধিক সদস্য জানান, আমাদের পরিষ্কার দফায় কর্মচারীরা তাদের কাজ করলেও স্বল্পসংখ্যক হওয়ায় তারা পুরো ক্যাম্পাসে কাজ করে পেরে ওঠতে পারে না।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন