শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাজার নিয়ন্ত্রণে পেঁয়াজ আসছে সমুদ্রপথে

সরবরাহ সংকট নিরসন করে পেঁয়াজের বাজার স্থির করতে সমুদ্র পথে আমদানি করা হচ্ছে পেঁয়াজ। পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই মিসর, চীন, তুরস্ক, মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছেন দেশের ব্যবসায়ীরা।

সমুদ্র পথে পেঁয়াজ আমদানি করার জন্য সরকারের কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংগনিরোধ বা কোয়ারেন্টিন দফতর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত ৯ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) সনদ নিয়েছেন আমদানিকারকরা। ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরদিনই মঙ্গলবার এক দিনেই আরও ১০ হাজার ৭৪২ টন আমদানির অনুমতি নিয়েছেন তারা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসছে মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকমোডিটি ইমপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজাউল করিম আজাদ বলেন, এখন সংকটের কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করলাম; সেই পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পর দেখা গেল ভারত সীমিত পরিসরে আবার রফতানি শুরু করেছে। তখন তো পথে বসতে হবে ব্যবসায়ীদের। তাই বাজারে সরবরাহ বাড়াতে চাইলে অন্তত দুই মাস ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার নিশ্চয়তা দরকার। ভারত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও আমরা দুই মাস পেঁয়াজ আনব না। সেই নিশ্চয়তা পেলে দেশের ব্যবসায়ীরাই প্রতিযোগিতা করে পেঁয়াজ আমদানি করবেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পেঁয়াজ আমদানির প্রথম ধাপ হচ্ছে আমদানি সনদ নেওয়া। পেঁয়াজ, রসুন, আদাজাতীয় কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রথমে উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তরের অনুমতি নিতে হয়। সেই অনুমতি নিয়ে আমদানিকারক ব্যাংকে ঋণপত্র খোলেন। এরপর রপ্তানিকারক দেশের বন্দর থেকে পণ্য জাহাজীকরণ হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। মূলত পণ্য জাহাজীকরণ বা জাহাজে তোলার পরই নিশ্চিত হওয়া যায় কী পরিমাণ পণ্য দেশে আসবে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে যাঁরা অনুমতি নিয়েছেন তাঁদের পেঁয়াজ এখন চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। অনেকের পেঁয়াজ পথে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  পোল্ট্রির কেজি ২০০ টাকা ছুঁই ছুঁই

চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সংগনিরোধ দফতরের উপপরিচালক ড. আসাদুজ্জামান বুলবুল বলেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৪ দিন পর্যন্ত ৯ হাজার ১০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির সনদ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আর গতকাল এক দিনেই ১০ হাজার ৭৪২ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য সনদ নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

চট্টগ্রাম থেকে সবচেয়ে বেশি তিন হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেওয়া ট্রেড ইমপেক্সের ফারুক আহমদ বলেন, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে আমি চালানটি আনার চেষ্টা করছি। অনুমতি নেওয়ার এক দিন পর ব্যাংক থেকে ঋণপত্র খুলেছি। জাহাজীকরণের পর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে ১৪ দিন লাগবে। পাকিস্তান ও চীন দুই দেশ থেকেই বিভিন্ন চালানে পেঁয়াজ আসবে।

আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন