শুক্রবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে সরকার

সম্প্রতি বাজারে পেঁয়াজে মূল্য আবারও বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বিপাকে পড়েছে সরকার। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। ভারতে এই পণ্যটির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাও সুযোগ বুঝে পণ্যটির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুযোগটি নিয়েছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের হাতে থাকা সপ্তাহখানেক আগে কম দামে কেনা পেঁয়াজও মওকা বুঝে কেজিতে ৩০ টাকা বাড়িয়ে দেশি পেঁয়াজ এলাকাভেদে কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। অপরদিকে আমদানি করা বড় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে।

ফলে কোনো কারণ ছাড়া পেঁয়াজের মূল্য এভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে একটু নড়েচড়ে বসেছে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। করোনা মোকাবেলায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি টাস্ক ফোর্স কমিটি রয়েছে।

গতকাল বুধবার এই কমিটির একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। বৈঠকে দেশের চলমান ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা কথা থাকলেও মূল আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল পেঁয়াজের মূল্য নিয়ে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, বৈঠকে পেঁয়াজের মজুদ, আমদানি ও সরবরাহ এবং মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করে বলা হয়নি দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে, আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির তেমন কোনো সঙ্গত কারণ নেই। পেঁয়াজের অবৈধ মজুদ বা কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে সরকার আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করেছে। পেঁয়াজের সরবরাহ এবং মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) অবিলম্বে খোলা বাজারে ট্রাক সেলের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করবে, নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া পেঁয়াজ আমদানিকারকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুল্কহার পুনঃনির্ধারণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং আইপি ও কোয়ারেন্টিন ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  পাটপণ্যে ভর্তুকি দিবে সরকার

বৈঠকে বাজার নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিকারকে মাঠে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সম্ভব হলে আগামী সপ্তাহ থেকে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করার কথাও ইতোমধ্যে বলা হয়েছে।

আনন্দবাজার/এইচ এস কে

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন