সোমবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভোক্তা-চাষির ভাগ্যেই দোষ!

ভোক্তা-চাষির ভাগ্যেই দোষ!

 খুচরায় বেশি, পাইকারীতে কম

  • উত্তাপে পুড়ছে শীতের সবজি

বিক্রিতাদের কথা, বাজার খুব ভালো যাচ্ছে না। পাতা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ২১ টাকা কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে ১৯ থেকে ২০ টাকায়। ১৭ টাকা কেজি কিনে বিক্রি করতে হয়েছে ১৫ টাকা। অন্যান্য শীতের সময় যে পরিমাণ চাহিদা থাকে এবার চাহিদা তেমন নেই, তাই বিক্রিও কম। আরেক বিক্রেতা বললেন, প্রায় ৩০০ কেজি ঢেঁড়স নিয়ে এসেছিলাম যার মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ কেজির মতো আছে। ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা পাল্লা ধরে বিক্রি হয়েছে। দাম বেশ কিছুদিন ধরে স্থিতিশীল। পাইকারি বাজারে দামের খুব একটা কমবেশি হয় না দু-এক টাকা ওঠানামা করে।

রাজধানীর বিভিন্ন ক্ষুদ্র সবজি ব্যবসায়ীরা কারওয়ান বাজার থেকে সংগ্রহ করেন প্রায় সব ধরনের সবজি। আর পাল্লা দরে বিক্রি হয় সেসব সবজি। তবে খুচরা বাজারে দাম অনেক বেশি। অথচ তারচেয়ে কম পাইকারি বাজারে। কয়েকজন বিক্রেতার ভাষ্য, উৎপাদনকারী আর ভোক্তারাই তো ঠকে বেশি। মাঝখানে যারা থাকে তারা টাকা তুলে নেয়।

যেমন বাজারে বেগুনের চাহিদা আগের চেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে। সবাই বলাবলি করছে বেগুনে নাকি ক্যানসার! এমন কথা ছড়িয়ে পড়ার পর চাহিদা তলানিতে। আগের চেয়ে অনেক কম চাহিদা, তেমন ব্যবসা নেই। খুব একটা বেচাকেনা হচ্ছে না। আগে যেখানে ৫০০ থেকে ৭০০ কেজি বেগুন বিক্রি হতো। তা এখন ২৫০ থেকে ৩০০ কেজিতে নেমে এসেছে।

এক ফুলকপি বিক্রেতা বললেন, মাঝারি সাইজেরগুলো ১২ থেকে ১৫ টাকা দরে প্রতি পিস বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য বারের থেকে এবছর দাম কিছুটা কম। শীতের শুরুর দিকে দাম সবসময় ভালো পাওয়া যায়। তবে এবার বাজারে চাহিদা একটু কম মনে হচ্ছে, ফলে দামটাও আশানুরূপ পাচ্ছি না।

আরও পড়ুনঃ  আগামী সপ্তাহে দেশে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

মূলত, খুচরা সবজির বাজারের চিত্র এবার ভিন্ন। দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। পাইকারি মূল্যের চেয়ে খুচরা মূল্যের প্রতিটি সবজি ১০ থেকে ২৫ টাকা কেজি প্রতি বেশি বিক্রি হচ্ছে। মতিঝিল বাজারে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা অথচ পাইকারি মূল্য কেজিপ্রতি ১০০ টাকা। ১ কেজি টমেটোতে ৩০ টাকা বেশি। এভাবে সব সবজি পাইকারি দামের চেয়ে ১০-৩০ টাকা কেজিপ্রতি বেশিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

দুদিন আগে ছুটির দিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ কেজির প্রতি পাল্লা মুলা ১০০ টাকা, শালগম ১৩০, শিম ১৭০, পাতা পেঁয়াজ ১০০ টাকা, ধুন্দল ১৫০, করলা ১৮০-২০০, কাঁচা টমেটো ১৫০, পাকা টমেটো ৫০০ – ৫৩০, বরবটি ২৪০, বেগুন ১৫০-২০০, ধনিয়া পাতা ৩৫০, চিচিঙ্গা ১৫০, পটল ১২০, আলু সাদা ১১০, লাল ১২০, নতুন আলু ২৫০, গাজর ২৫০, ঢেঁড়স ১৬০ কাঁচামরিচ ১৩০ টাকা। আরও দেখা গেছে,  লতি পাল্লা প্রতি (৫ কেজি) ২২০ টাকা, জলপাই ১০০, বাঁধা কপি ৩০ টাকা পিস, লেবু এক থেকে আড়াই টাকা প্রতি পিস। মাঝারি সাইজের ফুলকপি ১২-১৫ টাকা পিস ও বড় সাইজ ২০ টাকা, কাঁচা কলা ২০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভাষ্য,ছুটির দিনে একটু বেশি কাঁচামাল কেনা হয়। কারণ কেনাবেচা ভালো হয়। প্রতি কেজি সবজিতে পাঁচ থেকে সাত টাকা লাভে বিক্রি করা যায়। শীতের সবজিগুলোই সবচেয়ে বেশি চলে। আবার ক্রেতারা বলছেন, শীতের সবজির বাজারের উত্তাপ ভরা মৌসুমেও কমছে না। বলতে গেলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সরকারিভাবে নিয়মিত মনিটরিং করা হলে দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এতে বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা বেশি উপকৃত হবে। প্রতি কেজি সবজি পাইকারি মূল্যর চেয়ে খুচরা বিক্রি অনেক বেশি। আয় না বাড়লেও দিন দিন সংসারের খরচ বেড়েই চলতে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন