- চট্টগ্রামেই আটকে আছে ৫ হাজার মামলা
- নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী ও প্যানেল আইনজীবী সঙ্কট
- মামলা চালাতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংক
উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থের প্রয়োজন মেটায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এ ঋণ পরিশোধ করতে হয় তাদের। কিন্তু দুই দশক ধরে ঋণ পরিশোধ না করার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। ঋণ আদায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিলেও মামলাগুলো তত্ত্বাবধানের ক্ষেত্রে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না ব্যাংকগুলো। আইনজীবীদের কম সম্মানী জনবল সংকটসহ দক্ষতার ঘাটতি এবং মামলাজটের কারণে খেলাপি ঋণ আদায়ে পিছিয়ে পড়ছে ব্যাংকগুলো। অর্থঋণ আদালতে মামলাজট ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যাও চেয়েছেন অর্থঋণ আদালত।
ব্যাংকের খেলাপি ঋণের টাকা আদায়ে ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠা হয় অর্থঋণ আদালত। সারা দেশের অর্থঋণ আদালতগুলোতে অসংখ্য মামলাও চলমান। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রামেই আটকে রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার মামলা। বিভিন্ন সময়ে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো মামলা পরিচালনায় অমনোযোগী হওয়ায় কয়েক দশকেও ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া শেষ হয় না। এ ব্যর্থতার কারণে সাধারণ আমানতকারীর টাকা খেলাপিদের হাত থেকে উদ্ধারের জন্য গঠিত অর্থঋণ আদালতের উদ্দেশ্যও ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থতার জন্য সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নোটিস পাঠানো ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন অর্থঋণ আদালত। ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিক্রিদার ব্যাংকের মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীদের চেয়ে বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা সম্মানী পায় ১০ গুণেরও বেশি। এ কারণে সরকারি ব্যাংকের আইনজীবীরাও মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে শৈথিল্য দেখিয়ে থাকে। ব্যাংকগুলোর মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী সঙ্কট, পর্যাপ্তসংখ্যক প্যানেল আইনজীবী না থাকায় একসঙ্গে এত মামলা চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংক।
১ কোটি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৩ টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য জনতা ব্যাংক লিমিটেড লালদীঘি ইস্ট করপোরেট শাখা ১৯৯২ সালের ১৯ এপ্রিল একটি মামলা করে। দীর্ঘ ৩০ বছর অতিক্রান্ত হলেও বিবাদীর কাছ থেকে খেলাপি হওয়া ঋণের অর্থ আদায় করতে পারেনি ব্যাংক। মামলার নথিও বলছে, ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে টাকা আদায়েরও কোনো প্রমাণ নেই।
২০০৭ সালে এ নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুর আদেশ জারি করা হলে ঋণগ্রহীতা শেখ আবদুল মোমিন হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (১০৩১/২০০৭) দায়ের করেন। হাইকোর্ট বিভাগের আদেশক্রমে ওই মামলার কার্যক্রম ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত স্থগিত থাকে। ২০১০ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট এ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ডিক্রিদার ব্যাংক মামলাটি পুনরায় চালু করে খেলাপি ঋণ আদায়ের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ব্যাংকের এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে চরম অযোগ্যতা ও দায়িত্বহীনতা বলে আখ্যা দিয়েছেন আদালত।
আনন্দবাজার/শহক




