ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আইপিওশূন্য শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন মন্দার রেকর্ড

রেগুলেটরি কঠোরতা ও দীর্ঘায়িত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার বেড়াজালে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে এক নজিরবিহীন স্থবিরতা দেখা গেছে। পুরো বছরে একটি কোম্পানিও প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) নিয়ে আসেনি—যা দেশের শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক ইতিহাসে প্রাথমিক বাজারের সবচেয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ইবিএল সিকিউরিটিজ রিসার্চের বার্ষিক বাজার পর্যালোচনা ও ২০২৬ সালের পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে আইপিও বাজার কার্যত ‘বরফ হয়ে আছে’। এই ধরনের স্থবিরতা সাম্প্রতিক সময়ে আগে কখনো দেখা যায়নি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অতিরঞ্জিত আর্থিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে আইপিও আবেদনের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর অবস্থান, একাধিক প্রস্তাব বাতিল এবং ‘পাবলিক ইস্যু রুলস’ সংস্কারের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে নতুন কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি আটকে গেছে।

ইবিএল সিকিউরিটিজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই অচলাবস্থা সেকেন্ডারি মার্কেটের দীর্ঘমেয়াদি মন্দা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

অথচ ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়টিকে শেয়ারবাজারের প্রাথমিক বাজারের স্বর্ণযুগ বলা যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ১০টি কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে ৪৯৩ কোটি টাকা এবং ২০১৮ সালে ১৩টি কোম্পানি ৫৭৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। মহামারীর বছর ২০২০ সালেও ৮টি কোম্পানি ৬৮৯ কোটি টাকা তুলতে সক্ষম হয়। ২০২১ সালে ১৩টি কোম্পানি ১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় এবং ২০২২ সালে ১০টি কোম্পানি প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা তুলে রেকর্ড গড়ে।

তবে ২০২৩ সাল থেকেই প্রাথমিক বাজারে ধস নামতে শুরু করে। ওই বছর মাত্র দুটি আইপিও বাজার থেকে ৮৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে পারে। ২০২৪ সালে ৫টি কোম্পানি ৬৬১ কোটি টাকা তুললেও ২০২৫ সালে এসে আইপিও পাইপলাইন পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। ইবিএল সিকিউরিটিজের তথ্যমতে, গত পুরো অর্থবছরে কোনো নতুন লিস্টিং বা তহবিল সংগ্রহ হয়নি।

ব্রোকারেজ হাউজটি সতর্ক করে বলেছে, আইপিও কার্যক্রমের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি দেশের মূলধন গঠনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে ইক্যুইটি ফাইন্যান্সিংয়ের ওপর নির্ভরশীল কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। প্রাথমিক বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত রেগুলেটরি স্বচ্ছতা এবং একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ২০২৬ সালেও আইপিও বাজারে এই মন্দা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন