ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১০ হাজার কোটির নেগেটিভ ইক্যুইটি, কাটছে না ব্রোকারদের গড়িমসি

শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ‘নেগেটিভ ইক্যুইটি’ সমস্যার সমাধানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা উদ্যোগ নিলেও অধিকাংশ ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের সাড়া নেই। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে জানা গেছে, নেগেটিভ ইক্যুইটি থাকা ১৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ এখনো সমন্বয় ও প্রভিশনিং সংক্রান্ত কোনো কর্মপরিকল্পনা জমা দেয়নি।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বোর্ড অনুমোদিত কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে ৮৬টিরও বেশি ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক। এ অবস্থায় বিএসইসি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যারা কর্মপরিকল্পনা দাখিল করতে পারবে না, তাদের নেগেটিভ ইক্যুইটির বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন বা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে।

তবে যেসব প্রতিষ্ঠান বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা জমা দিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব প্রতিষ্ঠানকে নেগেটিভ ইক্যুইটি সমন্বয়ের জন্য ২০৩২ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩৯টি ব্রোকারেজ হাউস ও ২১টি মার্চেন্ট ব্যাংক এই বাড়তি সময়সীমার সুবিধা পেয়েছে বলে বিএসইসি জানিয়েছে।

বিএসইসি’র নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট খাতে মোট নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫ কোটি টাকা মূল মার্জিন ঋণ এবং বাকি ২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা সেই ঋণের ওপর অর্জিত সুদ। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর ‘ফোর্সড সেল’ বা বাধ্যতামূলক শেয়ার বিক্রিতে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারির ফলেই এই সমস্যা তৈরি হয়, যা সময়ের সঙ্গে কাঠামোগত জটিলতায় রূপ নিয়েছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নেগেটিভ ইক্যুইটির বড় অংশই ব্রোকারেজ হাউসগুলোর হাতে কেন্দ্রীভূত। শুধু ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ১০২টি ব্রোকারেজ হাউসেই জমে আছে ৫ হাজার ৯৪২ কোটি টাকার নেগেটিভ ইক্যুইটি। এর মধ্যে পিএফআই সিকিউরিটিজের নেগেটিভ ইক্যুইটি ৬৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ডসের ৬৬৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি আইসিবি সিকিউরিটিজ, আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ও আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টসহ সাতটি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটির নেগেটিভ ইক্যুইটি ৪০০ কোটি টাকার বেশি।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিএসইসি একাধিকবার সময় বাড়ালেও প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক প্রভিশন ঘাটতি এখনো ৫ হাজার ৫৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়ে আছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর যদি শেয়ারবাজারে ইতিবাচক গতি ফিরে আসে, তবেই এই বিশাল আর্থিক ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন