ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একীভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

সংকটে পড়া এবং পরবর্তীতে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই এসব ব্যাংকে আটকে থাকা আমানত ফেরতের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আমানত বিমা ব্যবস্থার আওতায় একজন গ্রাহক তাঁর জমাকৃত অর্থ থেকে একবারে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যেসব ব্যাংকের গ্রাহকরা এই সুবিধার আওতায় আসছেন, সেগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে এসব ব্যাংকের গ্রাহকরা তাঁদের আমানত ফেরত পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, আমানত ফেরতের ক্ষেত্রে যে ধরনের পদ্ধতিগত বা আইনি জটিলতা ছিল, তা সম্প্রতি সফলভাবে সমাধান করা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের সোমবার বা মঙ্গলবার থেকেই মাঠ পর্যায়ে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ শুরু করা সম্ভব হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি আমানত বিমা স্কিমের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

গ্রাহকদের সুবিধার্থে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আমানতকারীরা তাঁদের নিজ নিজ হিসাব পরিচালনাকারী শাখা থেকেই এই টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অনুসরণ করা হবে; যেমন—যদি কোনো গ্রাহকের একই ব্যাংকে একাধিক হিসাব থাকে, তবে তিনি মোট হিসাব মিলিয়ে কেবল একবারই দুই লাখ টাকা তোলার সুযোগ পাবেন। তবে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংকে (যেমন ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক উভয়টিতে) হিসাব থাকলে, তিনি প্রতিটি ব্যাংক থেকেই আলাদাভাবে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর টাকা জমা রয়েছে। এই আমানতকারীদের মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা।

তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিশাল অংকের ঋণের একটি বড় অংশই বর্তমানে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে, যার ফলে ব্যাংকগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়েছিল। তারপরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন উদ্যোগের ফলে সাধারণ ক্ষুদ্র আমানতকারীদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন