ধারাবাহিক দরপতনের ধাক্কা কাটিয়ে আগেরদিন সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ঘুরে দাঁড়িয়েছিল শেয়ারবাজার। তবে সেই গতি ধরে রাখা যায়নি আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর)। দিনশেষে সূচকে সামান্য পতন দেখা গেলেও টাকার অঙ্কে লেনদেন বেড়েছে, যা বাজারে বড় কোনো আতঙ্ক বা নেতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজ দিনের শুরুতে লেনদেন ছিল বেশ চাঙ্গা। সকাল ১১টার আগেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক প্রায় ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯০২ পয়েন্টে পৌঁছায়। এরপর কিছুটা মুনাফা তোল ও সংশোধনের মধ্য দিয়ে সূচক দুপুর ১টা পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০ পয়েন্ট উঁচুতেই অবস্থান করছিল। তবে শেষভাগে বিক্রির চাপ বাড়লে সূচক ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হয় এবং দিনশেষে পতনে গিয়ে শেষ হয়।
সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৬০ দশমিক ৬২ পয়েন্টে। একই সঙ্গে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৪ দশমিক ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে এবং ব্লু-চিপ সূচক ডিএসই-৩০ ১ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৭৩ দশমিক ১৭ পয়েন্টে।
ডিএসইতে আজ ৩৮৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৪টির, কমেছে ২০২টির এবং ৬৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। দর কমা শেয়ারের সংখ্যা বেশি হলেও লেনদেনের অঙ্ক বেড়ে যাওয়াকে বাজারের ভেতরের শক্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
লেনদেনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আজ ডিএসইতে মোট ৪০৭ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল প্রায় ৩৯৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে, অপার শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) লেনদেনে কিছুটা গতি দেখা গেছে। আজ সিএসইতে ১৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ১৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার তুলনায় বেশি। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৪টির দর বেড়েছে, ৭৮টির কমেছে এবং ৩০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। একই দিনে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬১৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে।




