ঢাকা | শনিবার
৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পতনের ধাক্কায় শেয়ারবাজারে লেনদেনে স্থবিরতা

চলতি বছরের ১৫ জুন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) যে লেনদেন হয়েছিল, তার অঙ্ক ছিল ২৬৩ কোটি ২ লাখ টাকা। ঠিক ছয় মাস পর, অর্থাৎ আজ ০৭ ডিসেম্বর লেনদেন হয়েছে সামান্য বেশি, ২৬৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এই প্রায় সমপর্যায়ের লেনদেন স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাজারের লেনদেনের গতি কমে গেছে, দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা বা ‘ড্রাইনেস’ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

বাজারের প্রধান সূচকগুলোতে পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগে রাখছে। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় ৪১ পয়েন্ট কমেছিল। আজ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস, রোববার সূচক কমেছে প্রায় ১৪ পয়েন্ট। এই ধারাবাহিক পতন বাজারকে একটি নিম্নমুখী অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট মহল এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ক্রমাগত দরপতনের ধাক্কায় শেয়ারের দাম এমন একটি তলানিতে পৌঁছেছে যে, এখন লোকসানের ভয়ে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীই এই দামে নিজেদের শেয়ার বিক্রি করতে একদমই আগ্রহী নন। তারা তাদের পুঁজি আটকে রেখেছেন এবং লোকসান মেনে নিয়ে বিক্রি করা থেকে বিরত থাকছেন। এই ‘বিক্রেতার অভাব’ এর কারণেই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না, অর্থাৎ বাজার ‘ড্রাই’ অবস্থায় পতিত হয়েছে।

তবে যদিও লেনদেন স্থবির, এর মধ্যে একটি ইতিবাচক এবং সাবধানী মনোভাবও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই এখন ‘নিটিং’ বা কোনো রকমে লোকসান সামাল দেওয়ার কৌশলে চলছেন। এর মানে হলো, তারা সক্রিয়ভাবে শেয়ার বিক্রি না করে বরং নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন এই আশায় যে, বাজার শীঘ্রই ঘুরে দাঁড়াবে।

এই ‘ধরে রাখার প্রবণতা’ একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত দেয় যে, বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করে যে বর্তমান মূল্যস্তর শেয়ারের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক কম। তারা এই বাজারকে ‘ওভারসোল্ড’ হিসেবে দেখছেন এবং মুনাফার আশায় অপেক্ষা করছেন। যদি এই বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী তাদের শেয়ার ধরে রাখেন, তবে একটি ছোট ইতিবাচক সংবাদেও বাজারে দ্রুত উল্টো গতি দেখা যেতে পারে। তাই, আপাত স্থবিরতা সত্ত্বেও, এটি ভবিষ্যতে বড় আকারের বাউন্স-ব্যাকের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

আজ প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮৭৩ পয়েন্টে। এর আগের দুই কার্যদিবসের পতনের মধ্যে বৃহস্পতিবার ৪১ পয়েন্ট ও বুধবার ২৩ পয়েন্ট কমেছিল।

আজ ডিএসইতে ২৬৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা বিগত ৬ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগে চলতি বছরের ১৫ জুন সর্বশেষ আজকের চেয়ে কম বা ২৬৩ কোটির ৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছিল।

আজ ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১১০টি বা ২৮.৪২ শতাংশের। আর দর কমেছে ২০৯টি বা ৫৪.০১ শতাংশের ও দর পরিবর্তন হয়নি ৬৮টি বা ১৭.৫৭ শতাংশের।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সাচেঞ্জে (সিএসই) ১৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৫৪টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৩৭টির, কমেছে ৯৯ টির এবং পরিবর্তন হয়নি ১৮টির।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৬৮৫ পয়েন্টে।
আগেরদিন সিএসইতে ১৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল। আর সূচক সিএএসপিআই ১১৪ পয়েন্ট কমেছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন