ঢাকা | শুক্রবার
১৮ই অক্টোবর, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ,
২রা কার্তিক, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ছয় মাসে রিজার্ভ থেকে ৬৭০ কোটি ডলার বিক্রি

ছয় মাসে রিজার্ভ থেকে ৬৭০ কোটি ডলার বিক্রি

দেশে আসছে না আশানুরূপ রেমিট্যান্স। একই সময়ে রপ্তানির আয় দিয়ে মেটানো যাচ্ছে না আমদানির ব্যয়। ফলে দেশের বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) সময়ে ৬৭০ কোটি (৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে। একই সময়ে বাণিজ্যিক কিছু ব্যাংক থেকে এক বিলিয়ন ডলারের মতো অর্থ কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (০১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রসঙ্গত, মহামারি করোনাকালে রেকর্ড প্রবাসী আয় আসে। ওই সময়ে (২০২০-২১ অর্থবছর) ডলারের বাজার ও দাম স্থিতিশীল রাখতে প্রায় ৮০০ কোটি বা ৮ বিলিয়ন ডলার কিনে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে ২০২১ সালের আগস্টে মাসে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ৭৬২ কোটি ডলার বা ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিক্রি করা হয় ১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে, ডলার সংকটের মধ্যেও খোলা বাজারে নগদ ডলারের প্রবাহ থেকেই যায়। বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা দেয়। আর ভিন্ন পদক্ষে হিসেবে প্রথমবারের মতো ডলারের দর তিন ধাপে কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবিবি ও বাফেদা। কৌশলে টাকা বিপরীতে ডলারের অবমূল্যায়ন তৈরি করা হয়। দর কমিয়ে এখন রেমিট্যান্স প্রতি ডলারে ১০৯ টাকা ৭৫ পয়সায় আসে। ব্যাংকগুলো নিজেদের আড়াই শতাংশ প্রণোদনাসহ প্রতি ডলার কিনছে ১১২ টাকায়। কিছু ব্যাংক আগ্রাসিভাবে ১২০ টাকা দামেও প্রবাসী আয় কিনছে, যাদের এলসি পেমেন্ট বকেয়া পড়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ ডিসেম্বর দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার, যা আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী ২১ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফর ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) থেকে বাজেট-সহায়তাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থছাড় হওয়ার এ রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে।

চলতি মাসে জানুয়ারিতে নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ের আকু বিল পরিশোধ হতে যাচ্ছে। এ বিল জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিশোধ হবে, এতে রিজার্ভ ফের কমবে।

এছাড়াও, অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক আগে বেসরকারি আমদানিকারকদের ডলার দিলেও এখন দিচ্ছে না। এর ফলে ডলার-সংকটে আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলা কমিয়ে দেয় ব্যাংকগুলো। বর্তমানে ছোট-বড় সব আমদানিকারকই ঋণপত্র খুলতে সমস্যায় পড়ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন