ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মন্দায় উজানে লেনদেন

মন্দায় উজানে লেনদেন
  • লেনদেন ৮শ কোটি টাকার ঘরে
  • পাট-চামড়ায় শতভাগ দর কমেছে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল মঙ্গলবার লেনদেন বেড়ে ৮শ কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করেছে। অপরদিকে চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন লেনদেন বেড়ে ৫৫ কোটি টাকার ঘরে অবস্থান। এসময় দুই স্টকে শেয়ার বিক্রয়ের চাপে লেনদেন বাড়ে। তবে দুই স্টকের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। এদিন ডিএসইর ৬২ ভাগ এবং সিএসইর ৫৮ ভাগ কোম্পানির দর কমেছে। উভয় স্টকে সব ধরনের সূচক পতন হয়।

বিভিন্ন মহলের শত চেষ্টায় পুঁজিবাজার উত্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি আগারগাওয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, সবাই ধৈর্য ধরুন,পুঁজিবাজার ভালো হবে। শিবলী রুবাইয়াতের এমন আশ্বাসের ঠিক পরের কার্যদিবস সত্যিই ঘুরে দাঁড়ায় পুঁজিবাজার। সেই উত্থান ফের মন্দায় চলে আসে। এদিকে আসন্ন অর্থবছরের বাজেট পেশের পর তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজার দরপতন হচ্ছে। এই তিন কার্যদিবসে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ে। ফলে কোম্পানিগুলোর শেয়ার ক্রেতা কম ছিল।

ডিএসইতে এদিন দুই খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। শতভাগ দর হ্রাসের খাতগুলো হলো- পাট এবং চামড়া। এদিন সিমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং, নন ব্যাংকিং আর্থিক, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানি শক্তি, বিমা, আইটি, বিবিধ, ফান্ড, পেপার, ওষুধ রসায়ন, টেলিকম এবং ভ্রমন অবসর খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এদিন সিরামিক খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। শেয়ার দর কমার একই চিত্র ছিল পুঁজিবাজার সিএসইতে।

পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৬১ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং সিএসইর ৫৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। অপরদিকে, ডিএসইর ২৩ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং সিএসইর ২৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এই ধরনের হ্রাসকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইতে গতকাল মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ৮৭৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার। গত সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৭৯৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮২টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৮৯টির, কমেছে ২৩৬টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৫৭টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩০ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৬১ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১৬ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ৭ দশমিক ১৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৩০০ দশমিক ৯১ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে।

ডিএসইতে শাইনপুকুর সিরামিকস শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন ডিএসইতে শাইনপুকুর সিরামিকস ৭০ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এদিন জেএমআই হসপিটাল ৪৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ২৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ২৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, মুন্নু ফেব্রিক্স ২৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স ২০ কোটি ৩১ লাখ টাকা, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, নাহি এ্যালুমনিয়িাম ১৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, পিপলস লিজিং ১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং স্যালভো কেমিক্যাল ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

সিএসইতে (মঙ্গলবার) লেনদেন হয়েছে ৫৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। গত সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৪৩ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯২টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৮৪টির, কমেছে ১৬৯টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৯টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৭৮ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭১০ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে।

এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৮ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৬২ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৪৮ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৫ দশমিক ২৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৭০  দশমিক ৪৬ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৪৯৩ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে, ১১ হাজার ২১৮ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৮৪ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে।

সিএসইতে লার্ফাজ-হোল্ডসিম শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন সিএসইতে লার্ফাজ-হোল্ডসিম ১৪ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওরিয়ন ফার্মা ১৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, শাইনপুকুর সিরামিকস ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা, বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক ১ কোটি ১১ লাখ টাকা, নাহি এ্যালুমিনিয়াম ১ কোটি ৮ লাখ টাকা, এপেক্স ট্যানারি ৭৯ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক ৬১ লাখ টাকা, মুন্নু ফেব্রিক্স ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন