শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে আমনের বাম্পার ফলন

গাজীপুরে আমনের বাম্পার ফলন

গাজীপুরে চলতি রোপা আমন মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান কাটা চলছে পুরোদমে, ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। সারা বছরের ধানের খোরাক অগ্রহায়ন মাসের ধান থেকেই রাখা হয়। সকালে হালকা থেকে ঘন কুয়াশা থাকলেও গাজীপুরে ইদানিং ভালো রোদ থাকায় ধান শুকাতে তেমন বেগ পেতে হচ্ছে না কৃষক-কৃষাণীদের।

এদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতি একর ধান কাটা হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়। আবার অনেকেই জনপ্রতি ৪শ থেকে ৫শ টাকা পারিশ্রমিকে ধান কাটাচ্ছেন। যাতে করে সঠিক সময়ে কষ্টে অর্জিত সোনালী পাকা ধান ঘরে তোলা যায়, এজন্য আবার অনেকেই বেশি টাকা শ্রমিককে দিয়ে ধান কাটাচ্ছেন। তবে এবার জেলায় আমন ধানের বেশ ভালো ফলন হয়েছে, পাশাপাশি জেলার বাজারগুলোতে ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকদের মুখে দেখা গেছে তৃপ্তির হাসি।

অগ্রহায়ণ মাসে দম ফেলার কোন সুযোগ নেই বাড়ির কৃষাণীদেরও। পাকা ধান দিনভর সিদ্ধ দিয়ে একটানা ৪-৫ দিন ভালো করে রোদে শুকিয়ে গোলাভরে রাখছেন তারা। আবার ধানের খড় শুকিয়ে মোড়া করে রাখছেন গরুর খাবারের জন্য। সরে

জমিনে জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ১২শ থেকে ১৩শ টাকা প্রতি মন। আবার চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে আরো একটু বেশি দামে।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের কৃষক মোঃ ইমাম উদ্দীন জানান, তিনি এক একরে ১৫ মন ধান পেয়েছেন, তুলনামূলক ভালো ফলন হয়েছে। তিনি বলেন, এবার বন্যার পরে ধান রোপন করেছি। বিশেষ করে উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার আমন ধানের কাঙ্খিত ফলন হয়েছে। উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের চরদুর্লভখাঁ গ্রামের কৃষক মোঃ আব্দুর রশিদ জানান, এই বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ধানের দাম বেশি আর শ্রমিক সঙ্কট না থাকায় কৃষকরা খুবই খুশি।

আরও পড়ুনঃ  বারোমাসি থাই পেয়ারায় ভাগ্যবদল

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও দেখা গেছে একই চিত্র। মনের আনন্দে ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহবুব আলম দৈনিক আনন্দবাজার প্রতিবেদক কে জানান, গাজীপুর জেলায় এবার রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলায় আমন ধানের জমি ৪২ হাজার ৪৭০ হেক্টর। এ পর্যন্ত জেলায় ৭৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা আশা করছি যে জেলায় সম্পূর্ণ ধান কাটা হলে কাঙ্কিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে যাবে। জেলার প্রত্যেকটি উপজেলায় ১টি করে কম্বাইড মেশিন (ধান কাটার মেশিন) দেয়া আছে, যাতে করে প্রত্যেকটা উপজেলায় ধান কাটার শ্রমিক সঙ্কট না দেখা দেয়। আর তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে অবশ্যই তারা মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটা যাবে।

আনন্দবাজার/শাহী/সবুজ

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন