সোমবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

জোয়ার আর বৃষ্টির পানিতে ভাসছে কৃষকের ধান। সেই সাথে পানিতে দোল খাচ্ছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার অধিকাংশ কৃষকের স্বপ্ন। এ উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও ধান কাটার সময়েই বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ফতেপুর ইউনিয়নের চারটি গ্রামের ৭৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এর  সাথে তলিয়ে গেছে কৃষকের সারা বছরের স্বপ্নও।

বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে জোয়ারের পানি বংশাই ও কয়েকটি শাখা নদী দিয়ে ঢুকে পড়ে বারকাটি বিলে। এতে ফতেপুর ইউনিয়নের বারকাটি বিল এলাকার প্রায় ২০ হাজার শতাংশ (৭৫ হেক্টর) জমির ধান ধান তলিয়ে যায়। অনেকেই আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে দেখা দিয়েছে শ্রমিকের সংকট।

জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে ৫১ লাখ ৮৪ হাজার শতাংশ (২০ হাজার ১শ হেক্টর) বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এরমধ্যে ৫১ লাখ ৪২ হাজার শতাংশ (২০ হাজার ৮১৫ হেক্টর) জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া, বৈন্যাতলী, গোবিন্দপুর ও সুতানরী গ্রামে প্রায় প্রায় ৩১ হাজার শতাংশ (১২৫হেক্টর) জমিতে বোরো আবাদ করে ওই এলাকার কৃষক। এরমধ্যে উঁচু এলাকার প্রায় ১০ হাজার শতাংশ জমির ধান কেটে ঘরে তুলেছেন কৃষক। ৫ হাজার ৫শ শতক জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিক না থাকায় বাকি ১৫ হাজার শতাংশ জমির ধান নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন কৃষক।

আরও পড়ুনঃ  সাত দিনেই ঢাকায় তৈরি হচ্ছে চীনের মতো হাসপাতাল

সরেজমিনে দেখা যায়, ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া, বৈন্যাতলী, গোবিন্দপুর ও সুতানরি এলাকার  শত শত কৃষকের বোরো ফসল কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে অনেক জমির পাকা ধান তলিয়ে গেছে। আবার অনেক জমির ধান ভাসছে।অথচ গত সপ্তাহেও খেতের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছিল সবুজের সমারোহ। যা নিয়ে স্বপ্নে বিভোর ছিলেন কৃষকরা।

থলপাড়া গ্রামের কৃষক ইসরাইল হোসেন জানান, প্রতি শতাংশ জমি চাষ করতে তাদের প্রায় ৩শ টাকা খরচ হয়েছে। ফলনও হয়েছিল ভালো। তার প্রায় ১শ শতাংশ জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়িতে থাকা সকলেই পানিতে নেমেছেন ধান কাটতে। কিন্তু এতে পুরো জমির ধান কাটা সম্ভব নয়।

মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান,  অসময়ের বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ফতেপুর ইউনিয়নের চারটি গ্রামের ৭৫ হেক্টর জমির ধান। এতে এসব এলাকার কৃষকের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। আমার তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন