শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঝড়ে বোরো ধানের ক্ষতি হলেও পূরণ হবে লক্ষ্যমাত্রা

একদিকে করোনা ভাইরাসের থাবা, অন্যদিকে সুপার সাইক্লোন আম্ফান ও কাল বৈশাখী ঝড়ের আঘাত। এতে দেশব্যাপী বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হলেও জাতীয় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন- ঝড়, বৃষ্টি, সাইক্লোনসহ বিভিন্ন দুর্যোগে যে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা বাদ দিয়েই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। সুতরাং করোনা, আম্ফান ও কাল বৈশাখীতে দেশব্যাপী বোরো ধানের যে ক্ষতি হয়েছে, এটা না হলে সেটা হতো লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত। তাই তারা জোর দিয়েই বলছেন, সরকার বোরো ধানের চালের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তা পূরণ হবে।

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুসারে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে ২ কোটি ৪ লাখ ৩০ হাজার টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এবার হাওরের সাত জেলায়- কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শুধু হাওরেই ৪ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমি। হাওর অঞ্চলে বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। সারা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ২০ ভাগের জোগান দেয় হাওর অঞ্চলের বোরো ধান। হাওরের ধান ঘরে ওঠায় লক্ষ্যমাত্রা অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে।

আম্ফান আঘাত হানার পরেরদিনই অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আম্ফানের আগে উপকূলীয় অঞ্চলের ১৭টি জেলার শতকরা ৯৬ ভাগসহ সারা দেশে ইতিমধ্যে ৭২ শতাংশ বোরো ধান কাটা হয়েছে। খুলনা অঞ্চলে প্রায় ৯৬ থেকে ৯৭ ভাগ ধান কাটা হয়। সাতক্ষীরাতেও ৯০ ভাগের বেশি ধান কাটা হয়েছে। পটুয়াখালীরও প্রায় সব ধান কাটা হয়। তবে ভোলাতে ধানের ক্ষতি হয়েছে। এর পরও আমাদের চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। খাদ্য ঘাটতিরও কোনো আশঙ্কা নেই।

আরও পড়ুনঃ  প্রেসিডেন্ট পার্কে শুধুই নীরবতা

আম্ফানে কৃষকের ধানের ক্ষতির বিষয়ে ইমেরিটাস অধ্যাপক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এম এ সাত্তার মন্ডল বলেন, প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে কাল বৈশাখী হচ্ছে। আম্ফান এবং কালবৈশাখীর কারণে কৃষকের ধান নষ্ট হলেও খাদ্য ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই। সরকার উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সেটাও ঠিক থাকবে।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন