শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শ্রমিকের সন্ধানে চাষিদের অভিযান!

শ্রমিকের সন্ধানে চাষিদের অভিযান!
  • উত্তরাঞ্চল থেকে শ্রমিক আনছেন শ্রীনগরের চাষিরা
  • ধান ঘরে তোলায় দুশ্চিন্তা
  • তিন বেলা খাবার, ১৩০০ টাকা মজুরি
  • বেশি টাকা-অফারেও মিলছে না শ্রমিক

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে জমির পাকা ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। এ কাজে দৈনিক মজুরি হিসেবে গুণেতে হচ্ছে ১৩০০ টাকা। এর আগে গত মার্চের শেষে কালবৈশাখীসহ বৃষ্টিতে খালের জোয়ারের পানি ধানি জমিতে ঢুকে পড়ায় চাষিদের ভোগান্তি বেড়েছে। আধাকাঁচা ধান জমিতে নুয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাকা ধান নষ্ট হচ্ছে। ধানি জমিতে জলাবদ্ধতা, কৃষি শ্রমিকের অভাব ও ঝড় বৃষ্টির আশঙ্কায় চাষিরা এখন ফসল ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।

শ্রীনগর উপজেলায় চলতি বছর বোরো মৌসুমে ৯ হাজার হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বিখ্যাত আড়িয়াল বিলের শ্রীনগর অংশেই ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম ধান হয়েছে। ধানের ওপর প্রদর্শনী (রাজস্ব) রয়েছে মোট ৫০টি। এলাকায় বর্তমানে মাড়াই করা ভিজা ধান সাড়ে ৭০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন চকে বা বিলে ধানের আবাদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিস্তীর্ণ আড়িয়াল বিলে আগাম ধান পুরোদমে কাটা শুরু হয়েছে। জোয়ারের পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি যোগ হওয়ায় বিলের অধিকাংশ জমিতে এখন হাঁটু পানি। ঝড় বৃষ্টিতে অসংখ্য জমিতে পাকা ধান নুয়ে পড়ায় চাষিদের ভোগান্তি বেড়েছে।

উপজেলার আলমপুর, শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মদনখালী, গাদিঘাট এলাকায় হাঁটু পানি ভেঙে বিলের দূরদুরান্ত থেকে জমিতে কাটা ধান শ্রমিকরা মাথায় কিংবা ছোট ডিঙ্গি নৌকায় করে লোকালয়ে যাচ্ছেন। এসব ধান সড়ক কিংবা গৃহস্থের বাড়ির আঙিনায় বোংঙ্গা বা শ্যালো ইঞ্জিত চালিত মেশিনে মাড়াই করা হচ্ছে। আড়িয়াল বিল ছাড়াও উপজেলার অন্যান্য চকের কোনো কোনো জমির পাকা ধান কাটা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে বাড়ছে বন্যার পানি, ঘরবন্দি সাড়ে ৬ লাখ মানুষ

শ্রীধরপুরের মন্টুর ছেলে কৃষক মিঠুন, লস্করপুরের সুলতানের ছেলে দ্বিন ইসলাম, বাড়ৈখালীর আবুল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন, আলমপুরের জাব্বার মৃধার ছেলে কুদ্দুস মৃধাসহ অনেকেই জানান, আড়িয়াল বিলের বেশির ভাগ জমিতেই পানি উঠায় ধান কাটায় ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষি শ্রমিকের অভাবে অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও ধানকাটার শ্রমিক মিলছে না। তিন বেলা খাবার দিয়ে একজন শ্রমিককে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা প্রতিদিন দিতে হচ্ছে।

সালাম নামে এক বোরোচাষি বলেন, তারা কুড়িগ্রাম থেকে ৪০ জনের একটি শ্রমিক দলকে ধানকাটার জন্য চুক্তি করে নিয়ে এসেছেন। কেননা, অন্য বছরের তুলনায় এবার কম শ্রমিক আসছে।

শ্রীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার শান্তনা রানী বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি জমিতে উঠে গেছে। এছাড়াও ঝড় বাতাসে অনেক জমিতে ধান পড়ে গেছে। ঈদের ছুটির কারণে কৃষি শ্রমিকদের আসতে বিলম্ব হচ্ছে। কৃষকের জমিতে নুয়ে পড়া ধান কাটার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন