বিশ্বব্যাপী সাগরপথে পণ্য পরিবহনের বড় বাজার তৈরি হয়েছে। এই বাজার ধরতে উদ্যোগ নিচ্ছে দেশীয় উদ্যোক্তারা। গত দুই বছরে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে মালবাহী জাহাজ নির্মাণ ও কেনার ক্ষেত্রে। প্রতিবছর জাহাজে পণ্য আমদানি-রফতানিতে মাল পরিবহন বাবদ ৯০০ কোটি ডলার ভাড়া দিতে হয় বাংলাদেশকে।
মালবাহী জাহাজ কম থাকায় আগে এ পরিবহন বাণিজ্যের মাত্র ৮ থেকে ১০ শতাংশ ধরতে পারতো স্থানীয় সমুদ্রগামী জাহাজ। তবে বর্তমানে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে আইনি সুরক্ষা, কর সুবিধা এবং বর্ধিত ফ্রেইট চার্জের সুবাদে এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা।
বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হওয়ায় গেল দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে জাহাজ পরিবহন খাতে। করোনা মহামারির দুই বছরে দেশীয় পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজের বহরে যুক্ত হয়েছে ৩২টি জাহাজ। অথচ ২০১৯ সালে মাত্র ৪৮টি জাহাজ ছিল বহরে। চলতি ডিসেম্বরেই মোট জাহাজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০টিতে। এতে জাহাজ ভাড়া সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরনির্ভরতা কমবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যমতে, দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে যে বিপুল পরিমাণ ভাড়া পণ্য পরিবাহী বিদেশি শিপিং সংস্থার কাছে যায়, সেই বাজার ধরতেই বিনিয়োগকারীরা জাহাজের বহর বাড়িয়েছেন। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভ্যাট ছাড়, দেশের সমুদ্র বন্দরে জাহাজের বার্থিং পেতে অগ্রাধিকার, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে পণ্যের ৫০ শতাংশ দেশীয় জাহাজে পরিবহনের বাধ্যবাধকতা এবং ক্রমে স্ফীত আমদানি-রফতানির ফলে এখাতে প্রবৃদ্ধির সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী পণ্য বা মালবাহী জাহাজের দাম কমে আসে। আর সেটাই আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। মহামারিতে বিশ্বব্যাপী লকডাউনের কারণে বন্ধ হয়ে যায় নৌ বা সমুদ্রপথও। তাই বিশ্ববাণিজ্যে মন্দাভাব দেখা দেয়। আর তাতে জাহাজের দাম ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ডলার থেকে নেমে আসে ৫ থেকে ৬ মিলিয়ন ডলারে। এতে দেশের জাহাজ ব্যবসাখাত দুদিক থেকেই সুবিধা পেয়ে যায়।
এসব কারণেই গত দুই বছরে মালবাহী জাহাজের বহরে যুক্ত ৩২ জাহাজ। এতে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। বিনিয়োগের সুফল পেতে আরো কিছুদিন যেমন লাগবে তেমনি আরো সম্ভাবনা দেখা দেবে এ খাতে। বিশেষ করে দেশীয় পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে এখাতের ২০ শতাংশ ধরে; বার্ষিক ২০০ কোটি ডলার আয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি এখাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
আনন্দবাজার/শহক




