- হুমকির মুখে পরিবেশ
ময়মনসিংহের ভালুকায় অবৈধ করাতকলে উজাড় হচ্ছে বিস্তীর্ণ বনভূমি। এতে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১০ কিমি. মধ্যে করাতকল বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও তা মানছে না কেউ। বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ভালুকায় ৮৯টি করাতকলের মধ্যে ৭৭টির বৈধ কোনো কাগজপত্র ও অনুমোদন নেই। এসব করাতকলে অবাধে কাঠ চিরাই করা হচ্ছে। আবার লাইসেন্স না থাকায় করাতকলগুলো থেকে সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। শুধুমাত্র পৌর এলাকায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত করাতকল রয়েছে ১২টি। ইতোমধ্যে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে ৪০টি। মামলা হয়েছে ১৫টি।
বন আইন অনুযায়ি, বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে করাতকল স্থাপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরও অধিকাংশ করাতকলই সামাজিক বন বিভাগের কাছাকাছি। সংরিক্ষত বন থেকে চোরাই পথে আনা বিভিন্ন গাছ চিরাই করা হয় করাতকলে। বন উজাড়ের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে বন্যপ্রাণী। এতে হুমকির মুখে পড়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।
সরেজমিনে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের পানিভান্ডা গ্রামের আব্দুল্লাহ নিঝুরী বাজারের পাশে ৬ শতক জমি ভাড়া নিয়ে ১০ বছর যাবত করাতকল স্থাপন করে কাঠচিরাই করা হচ্ছে। রাস্তার পাশে যত্রতত্র ফেলে রাাখা হচ্ছে কাঠ। এতে যানবাহন চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক করাতকল মালিক জানান, শিল্প কারখানার কাঠ কাটার সূত্র ধরেই করাতকলের ব্যবসা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই তারা করাত কল চালাচ্ছেন। অপরদিকে অনুমতিপ্রাপ্ত করাতকল মালিকদের অভিযোগ, অবৈধ করাতকল গুলোর কারণে তাদের করাতকল চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাপা ভালুকা আঞ্চলিক শাখার সদস্য সচিব কামরুল হাসান পাঠান কামাল জানান, পৌরএলাকা ব্যতিত উপজেলার গড়ে উঠা করাত গুলোর কোন লাইসেন্স নেই। এসব করাতকলে অবাধে বনের কাঠ চিরাই করা হচ্ছে। এতে পরিরেশের ভারসাম্য নষ্ট ও মারাত্মক বিপর্যয় মুখে পড়ার শংকা রয়েছে।
ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, অবৈধ করাতকলের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছ। যারা অবৈধভাবে চালাচ্ছে তাদেরকে নোটিশ দেয়া হয়ছে। আবার অনেকে লাইসেন্সের জন্য অবেদন করছে। উথুরা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ খান জানান, উথুরা রেঞ্জে ৪১টি করাতকল রয়েছে। এসব অবৈধ করাতকলের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যারা অবৈধভাবে চালাচ্ছে তাদের নোটিশ দেয়া হয়ছে। অনেক লাইসেন্স পেতে অবেদন করছে। যা সংশ্লিষ্ট আইনের নিয়ম বহির্ভূত। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ.কে.এম রুহুল আমিন জানান, অবৈধ ও অনুমোদনবিহীন করাতকলের তালিকা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। করাতকল মালিকদের বনবিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সর্তক করে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মোবাইল কোর্ট করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




