- নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
- দেড় বছর ধরে নির্মাণ কাজ বন্ধ
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া ব্রিজ থেকে বড়ডালিমা পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় এলাকাবাসীর তোপের মুখে প্রায় দেড় বছর ধরে সড়কটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের উপকরণ অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় সোয়া ২ কিলোমিটার কার্পেটিং সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রকল্পটির কাজ শুরুর পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে সাববেজ ও ম্যাকাডাম নির্মাণ করা হয়েছে। সঠিক নিয়মে রোলার দিয়ে কমপ্যাকশন করা হয়নি। নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে কর্তৃপক্ষ নিম্নমানের ইটের খোয়া অপসারণের পর নতুন করে সাববেজ ও ম্যাকাডাম নির্মাণের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে তড়িঘড়ি করে ঠিকাদার সামান্য পরিমাণ নিম্নমানের ইটের খোয়া অপসারণ করে। এরপর তদ্বির করে আবারও নিম্মমানের উপকরণ দিয়ে সাববেজ ও ম্যাকাডাম নির্মাণ করে ঠিকাদার। সিডিউল অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২১ আগষ্ট কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিলো। তবে ঠিকাদারের অনিয়মের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ভোগান্তির শিকার এলাকাবাসী।
স্থানীয় শাহাবুদ্দিন মৃধা, জাফর সরদার ও মানিক হাওলাদারসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সিডিউল অনুযায়ী সড়কটির নির্মাণকাজ চলছে না। ইট হাতে নিয়ে সামান্য চাপ দিলেই পাউডার হয়ে যাচ্ছে। তা দিয়েই চলছে নির্মাণকাজ। কাজের সাইটে এলজিইডি অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারি তদারকির জন্য আসেন না। এতে ঠিকাদার যা ইচ্ছে তাই করছেন।
তারা বলেন, এলাকাবাসীর তোপের মুখে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ নিম্নমানের ইট অপসারণের নির্দেশ দিলেও ঠিকাদার তা করছেন না। বরং লোকদেখানো কিছু ইট অপসারণ করে পুণরায় কাজ শুরু করেছেন।
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে সড়কটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পল্লী ষ্টোরের প্রতিনিধি আবদুল আজিজ মোল্লা বলেন, ম্যাকাডাম নির্মাণের পর ল্যাব টেষ্ট করা হয়েছে। এখন আর কোন সমস্যা নেই।
প্রকল্পটির তদারকি কর্মকর্তা বাউফল এলজিইডির সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম বলেন, যেখানে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে নতুন করে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বাউফল উপজেলা প্রকৌশলী সুলতান হোসেন আনন্দবাজরকে বলেন, অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। সিডিউল অনুযায়ী যথাযথ মানের উপকরণ দিয়ে প্রকল্পের কাজ করতে হবে। অন্যথায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আনন্দবাজার/এম.আর




