ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিজয়ের পঞ্চাশে তারুণ্যের ভাবনা

বিজয়ের পঞ্চাশে তারুণ্যের ভাবনা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে পাকিস্তানের শোষণ, নিপীড়ন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে পরাজয় স্বীকার করে নেয়। শুরু হয় নতুন এক জাতির পথচলা। বিশ্বের বুকে পরিচয় পায় একটি লাল সবুজের পতাকা ও একটি নতুন মানচিত্র। যার নাম বাংলাদেশ। সেদিন থেকেই সগৌরবে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। বর্তমানে উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। দেখতে দেখতে বিজয়ের পঞ্চাশ বছরে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। বিজয়ের পঞ্চাশে একঝাঁক তরুণ শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা জানাচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এম এ সাঈদ চৌধুরী।

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হবে

বিজয় শব্দটি সব সময় আনন্দের। বিজয় শব্দটি শুনলেই খুশি লাগে। সেটা যদি হয় বাংলাদেশের বিজয় দিবস তাহলে তো বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দের অনুভূতির আলোড়ন শুরু হয় হৃদয়ে। তবে এ বিজয়ের পিছনে লুকিয়ে আছে শত সহ¯্র দুঃখ-দুর্দশার নির্মম চিত্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশে^ পরিচিতি লাভ করেছে। মুক্তিযুদ্ধ সর্ম্পকে বেশি করে জানতে হবে। বাংলাদেশের বিজয় সর্ম্পকে সকলের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। প্রতিটি মানুষের মনে লালিত হোক মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের চেতনা। তরুণদের মাঝে উজ্জীবিত হোক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।- ইমরান হুসাইন- বাংলা বিভাগ।

বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে আরো সমৃদ্ধশালী হোক

দেখতে দেখতে বিজয়ের ৫০ বছরে পৌঁছেছে সোনার বাংলাদেশ। বিজয়ের বহুবছর পর বাংলাদেশ বদলেছে। প্রতিনিয়ত উন্নতির শিখরে অবস্থান করছে। তার মধ্যেও রয়েছে কিছু প্রতিবন্ধকতা। আর তা দূর করতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নত দেশ হিসেবে জায়গা করে নিবে। শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা ক্ষেত্রে দেশে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা বেশি সুযোগ-সুবিধা বেশি পেয়ে থাকে। এর প্রধান কারণ মানুষের চিন্তায় আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। মেয়েদের বাল্যবিবাহ দেয়া হচ্ছে। এতে মেয়েরা শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। মাঝপথেই নিজের স্বপ্নকে শেষ করে দিতে হচ্ছে। জাতিকে উন্নত করতে হলে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি এতিম, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের লেখাপড়া নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষিত জাতি দেশের জন্য আর্শিবাদ স্বরূপ। বিজয়ের ৫০ বছরে এসেও নারীরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রত্যেক মা, বোন, মেয়ে যেন ঘর থেকে বের হয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। নারীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।-জাকিয়া আক্তার-মার্কেটিং বিভাগ

অর্জিত স্বাধীনতা সুরক্ষাই বিজয়ের প্রাণ

যে কোনো বিষয়ে বিজয় অর্জন করা কঠিন। কিন্তু তার চেয়েও কঠিন অর্জিত বিজয় রক্ষা করা। এ কথাটি যদি আমাদের স্বাধীনতার সঙ্গে, রাষ্ট্রের অর্জিত স্বাধীনতা ও স্বাধীন অস্তিত্বের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় তাহলে সেটি আরও জোরালোভাবে ধরা পড়ে। অর্জিত স্বাধীনতা ও বিজয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তিকালে অর্জনকে রক্ষা করার বিষয়টি মিলিয়ে দেখা এবং এর প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকালে দেশপ্রেমে অনড় থেকে আমাদেরকে এ স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। স্বাধীনতার এত বছর পরও বিদ্যমান অনেক প্রতিবন্ধকতা মনে বিষন্নতার জন্ম দেয়। আমরা আমাদের দেশ থেকে দুর্নীতিকে আজও বিদায় দিতে পারিনি। দেশ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ লঙ্ঘনকারীদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দেশের কল্যাণে ব্রত হয়ে আমাদের সত্যের পথে লড়তে হবে আজীবন এবং সমুন্নত রাখতে হবে লাখো শহিদের প্রাণের বিনিময়ে আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা।
– মো. ইয়াছিন ইসলাম-সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হোক তরুণদের ভবিষ্যৎ

বিজয়ের জন্য সাত কোটি বাঙালি হেঁটেছিল সংগ্রামের পথে, লাল সবুজ পতাকা অর্জনের জন্য ৩০ লাখ শহীদ রক্ত ঝরিয়েছে, মানচিত্রের জন্য সম্ভ্রম হারিয়েছেন দুই লাখ মা-বোন। সেই বিজয়ের পঞ্চাশ বছরে তরুণদের দেশকে নিয়ে ভাবনা-প্রত্যাশার পাশাপাশি বেড়েছে দায়িত্ব। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তির দিক থেকে যে অকল্পনীয় সাফল্য অর্জন করেছে, তা বিশ্ববাসীর কাছেও বিস্ময়। বঙ্গবন্ধু যদি দেশিয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার না হতেন, তাহলে এই বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এর চেয়েও বেশি সাফল্য নিশ্চিত করতে পারত। কিন্তু পরাশক্তিসহ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দেশি-বিদেশি নানা শক্তির গভীর চক্রান্ত সেই স্বপ্ন নষ্ট করে দিয়েছিল জাতির পিতাকে হত্যার মধ্যদিয়ে। তবুও বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করা, শিল্পায়নের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন, বাংলাদেশ থেকে রফতানি বৃদ্ধি, মানব সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের প্রসারকে উৎসাহ দেয়ার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন এবং বেকারত্ব হ্রাস করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে আসাই হোক বিজয়ের পঞ্চাশ বছরের প্রতিজ্ঞা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তরুণদের জীবনে আসুক আমূল পরিবর্তন।-আনন্যামা নাসুহা- উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ।

বিজয়ের ৫০ বছর, সমস্যা আছে সমাধান কই ?

বাংলাদেশ সম্পর্কে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ৩৬তম অর্থনীতির দেশ। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বিধ্বস্ততা থেকে বাংলাদেশ বের হয়ে একটি শক্ত অর্থনৈতিক অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। অথচ সে সময় বিশ্বের কোনো দেশই আশা করেনি, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এতটা শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড়াতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে বলেছিলেন, তলাবিহীন ঝুড়ি। বাংলাদেশ অর্থনীতিতে যতটা শক্তিশালী হচ্ছে, দুর্নীতিও গতি পেয়েছে তার সমান তালে। এতে বেড়েছে আয় বৈষম্য। ধনী আরও ধনী হচ্ছে, গরিব আরও গরিব হচ্ছে। শিক্ষার হার বাড়লেও দিন দিন উচ্চ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে।

দেশে মোট বেকার সংখ্যা ২৭ লাখ। স্বাস্থ্যখাতে যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হলেও উন্নত চিকিৎসা প্রাপ্তিতে সংকট রয়েছে। বিশ্ব গণতন্ত্র সূচকে ১৬৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮০তম। পদ্মা ব্রিজ, রূপপুর পারমাণবিক প্ল্যান্ট, বঙ্গবন্ধু ট্যানেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, উড়ালসেতু প্রভৃতি বড় বড় কাঠামোর কারণে জাতীয় প্রবৃদ্ধির উচ্চ হার বজায় থাকলেও আইন, সুশাসন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সূচকগুলোতে আমাদের অবস্থান সম্মানজনক বলা যায় না। এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকির মুখে থাকা মানুষের অভিযোজন বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারের প্রসার, দূষণ মোকাবিলা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মত বড় চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে বাংলাদেশ। এ বছর থেকে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সুশাসন ও গণতন্ত্রের নতুনযাত্রা শুরু হোক, এটি আমাদের সবার আন্তরিক আকুতি।- শানজানা রহমান-সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।

অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে

স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। সব ধরনের বৈষম্যহীন একটি নিরাপদ স্বাধীন দেশ গড়তে হবে। যেখানে জাতি ধর্ম-বর্ণ সকলে সকল ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়ে সোনার বাংলা গড়তে মনোযোগী হবে। মাথার উপরের একআকাশ আর পায়ের নিচের একই মাটির মানুষের মধ্যে থাকবে না কোনো দ্ব›দ্ব। সকল মানুষ অন্ন পাবে, বাসস্থান পাবে, সুচিকিৎসা পাবে, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আদর্শ জাতি গঠনে মনোযোগী হবে। ধর্মান্ধতার বীজ মূলোৎপাটন করে দেশটা হবে সকল মানুষের। এত কষ্টে অজির্ত বিজয়ের কেবল তখনই পূর্ণমূল্যায়ন করা হবে যখন নিজেরা নিজেদের আপন ভাবতে পারব।- সৌরভ ঘোষ,-ইতিহাস বিভাগ।

সকল বাঙালির মতো আমিও স্বপ্ন দেখি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশ হবে সম্পন্ন বাঙালি জাতি হিসাবে যেখানে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ থাকবে না। অম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের চিন্তা চেতনাকে আরো প্রসস্ত করতে হবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মানতে হবে। তরুণদেরকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে হবে। রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণের জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন