খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক বৃদ্ধির পরিমাণ চলতি বছরের নভেম্বরে সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শ করেছে। এ নিয়ে টানা চার মাসের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক বাড়তির দিকে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশনের (এফএও) একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গম ও দুগ্ধজাত খাদ্যের উচ্চ চাহিদার ফলে বাজারে দাম লাগামহীন। নভেম্বরে এফএওর সূচকে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়ায় ১৩৪ দশমিক ৪ পয়েন্টে। বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম এক দশকে বেড়েছে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। গম ও দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদার উল্লম্ফনের ফলেই বাজারে এ চড়া দাম উঠেছে। বাজারে খাদ্যের অপর্যাপ্ত সরবরাহ, পণ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, কারখানা বন্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বেশ কয়েকটি কারণকে দায়ী করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
এফএও জানায়, খাদ্যশস্যের দাম এক বছরে বেড়েছে ২৩ দশমিক ২ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যের দাম বাড়ায় ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধিকে একটি প্রধান প্রভাবক। আন্তর্জাতিক বাজারে এফএওর সূচক অনুযায়ী পাম ও সয়া তেলের দাম বেড়েছে।
গমের দাম নভেম্বরে টানা পাঁচ মাসের মতো বেড়েছে। পাশাপাশি এ মাসে ভুট্টার রফতানি মূল্যও কিছুটা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এদিকে নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ব্যাপকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল বলে জানায় এফএও। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে চাল উৎপাদনের অগ্রগতি ও চাহিদার লাগাম টানার ফলে খাদ্যশস্যটির দামে স্থিতাবস্থা বজায় থেকেছে।
এফএওর প্রতিবেদন অনুসারে নভেম্বরে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক ছিল ১৮৪ দশমিক ৬, যা অক্টোবরের তুলনায় দশমিক ৩ পয়েন্ট বা দশমিক ২ শতাংশ কম। এ মাসে সয়া ও র্যাপসিড তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এ সময় পাম অয়েলের আন্তর্জাতিক দর বেশ শক্তিশালী অবস্থানে ছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নভেম্বরে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক ছিল ১২৫ দশমিক ৫ পয়েন্ট, মাংসের বৈশ্বিক মূল্যসূচক ছিল ১০৯ দশমিক ৮ পয়েন্ট। এছাড়া চলতি মাসে চিনির দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চিনির দাম ৪০ শতাংশ বাড়ল।
আনন্দবাজার/এজে
