বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। আবরবিশ্বের আর্থিক সহায়তা কমে যাওয়ায় দেশটি এই সংকটের মুখোমুখি। ২০১৯ সালের তুলনায় এবছর অর্ধেক বিদেশি সহায়তা হারিয়েছে যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত এই দেশটি। ২০২০ সালে দেশটির রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭০ শতাংশে।
আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসায় আরও বেশি আর্থিক সহায়তা হারানোর আশঙ্কা করছে তারা।
ফিলিস্তিনের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মার্চের পর থেকে রামাল্লাহ কোনো আরব দেশের পক্ষ থেকে ফান্ড পায়নি। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ২৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি সহায়তা লাভ করেছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। এর আগের বছর (২০১৯ সালে) একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গত বছর প্রথম সাত মাসে আরব দেশগুলো থেকে ফিলিস্তিনে সহায়তা এসেছিল ২৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বছর যা ৮৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। সহায়তা বন্ধের পেছনে করোনাভাইরাসকে কারণ হিসেবে দেখালেও আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক চুক্তি এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞার মুখে বেশির ভাগ আরব দেশ আরব সামিটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফিলিস্তিনের জন্য ১০০ মিলিয়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি, যেমনটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন। আমরা জানি না, এটা কি করোনা মহামারির আর্থিক সংকটের ফল, নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের।
আরব দেশগুলোর ভেতর সৌদি আরব ও কাতার এখনো ফিলিস্তিনকে অর্থ সহায়তা করে আসছে। ২০১৩ সাল থেকে সৌদি আরব প্রতি মাসে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে আসছে ফিলিস্তিনকে। গত মার্চে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায় আগামী ছয় মাসে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কাতার।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস

