চীন-ভারতের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় দুই পক্ষই কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়েছে। তবে কাউকে নিশানা করা হয়নি, শূন্যে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে এবার ভারতের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চীনা সেনারা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ভারতীয় অবস্থানে ঢুকে পড়লে তক্ষণাৎ গুলি চালানো হবে।
গত জুন মাসে গলওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়ায় দুই দেশ।
দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গত ২৯-৩০ আগস্ট চীন-ভারত সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক দফায় দুই দেশ নিজ নিজ শক্তি জানান দিতে শূন্যে গুলি ছুড়েছে। তবে সম্প্রতি ভারত ও চীনের কমান্ডারদের মধ্যকার ষষ্ঠ রাউন্ড বৈঠকে দুই দেশের তরফে সিদ্ধান্ত হয়, লাদাখের ফ্রন্টলাইনে অতিরিক্ত সেনা পাঠানো থেকে দু-পক্ষই বিরত থাকবে।
গতকাল ২৫ সেপ্টেম্বর চীনের মালদোয় পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে বৈঠকে ভারতের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, পূর্ব লাদাখের সমস্ত অঞ্চল থেকে আগে চীনা সেনা সরাতে হবে। নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গা থেকে নয়। দাসপাং সমভূমি থেকে প্যাংগংয়ের দক্ষিণাঞ্চল, সমস্ত জায়গা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। তবে ভারতের এই প্রস্তাব মানতে নারাজ চীন। পূর্ব লাদাখ থেকে চীনা সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনার আগে ভারতকে প্যাংগং লেকের দক্ষিণের পাহাড়ের চুড়া থেকে সেনা সরাতে হবে বলে দাবি চীনের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি-নিউজের প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভারত চীনকে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের সেনা যদি আমাদের পজিশনে ঢুকে পড়ে, ভারতীয় সেনার আত্মরক্ষায়, নিজেদের পজিশন সুরক্ষিত রাখতে তক্ষণাৎ গুলি চালাবে।
ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’ সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, চীনকে বারবার বলা হয়েছে, এলএসি লাগোয়া অঞ্চল থেকে পিএলএ’কে সরিয়ে নিতে। তবে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে চীন। এলএসি থেকে সেনা সরাচ্ছে না। এই উত্তেজনার আবহে ভারতের বিমানবাহিনী সর্বক্ষণ সতর্ক রয়েছে।
আনন্দবাজার/টি এস পি

