ঝিনাইদহে করোনার প্রভাবে বিপাকে পড়েছেন দুগ্ধ খামারীরা। গরুর খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং দুধের চাহিদা কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। এই অবস্থা দীর্ঘমেয়াদী ভাবে চলতে থাকলে পথে বসতে হবে অনেক দুগ্ধ খামারীকেই।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ধনঞ্জয়পুর গ্রামের খামার ‘এম আর এইচ এগ্রো প্রাইভেট লিমিটেড’। ছোট বড় মোট ৪২ টি গরু রয়েছে ফার্মটিতে। এর মধ্যে ২২ টি গাভী থেকে প্রতিদিন দুধ হয় ১২০ লিটার। করোনার প্রভাবে ধরতে গেলে বন্ধ রয়েছে দুধ বিক্রি। যা বিক্রি হচ্ছে তাও পানির দামে স্থানীয় ভাবে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ঝিনাইদহে ছোট বড় প্রায় ৫০ হাজার দুগ্ধ খামার রয়েছে। জেলায় প্রতিদিন দুধ উৎপাদন হয় ২৮৪ মেট্রিক টন। রোকনুজ্জামান রিপনের মতো ঝিনাইদহের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারীদের একই অবস্থা। কোম্পানির বাইরের অতিরিক্ত দুধ এতদিন মিষ্টিসহ বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে দেয়া হতো। করোনার কারণে সেসব বন্ধ ও হাট-বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় ধস নেমেছে দুধের বাজারে। শুধু তাই নয় যানবাহনের কারনে গোঁ খাদ্য আনা নেওয়ার সমস্যার পাশাপাশি বেড়েছে দাম।
‘এম আর এইচ এগ্রো প্রাইভেট লিমিটেড’ এর মালিক রিপন জানান, তার খামারে ৫/৬জন শ্রমিক কাজ করে। তাদের পারিশ্রমিক দেওয়া এবং গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে তাকে। ব্যাংক থেকে ১ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সুদ দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার। খামারী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি প্রণোদনাসহ ঋণের সুদ মওকুফের দাবি তার।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আনন্দ কুমার অধিকারি বলেন, করোনায় খামারীদের লোকসানের বিষয়টি সরকারকে অবহিত করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনাসহ খামারীরা সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা পাবে বলে আশা করছি।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস/বি ইউ
