মহামারি করোনায় খুলনার পাইকগাছার গদাইপুর ইউনিয়নের কর্মহীন অসহায় পালপাড়ার মৃৎশিল্প পরিবারের কেউই কোন প্রকার খাদ্য বা ত্রাণ সামগ্রী পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, হিতামপুরের পালপাড়ার প্রায় ৫০ পরিবার মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত। মাটির তৈরি হাঁড়ি, পাতিল, কলস তথা মাটির জিনিসপত্র বিক্রি করে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হয়।
বর্তমানে প্লাস্টিক, মেলামাইন ও স্টিলের যুগে মাটির তৈরী আসবাবপত্র সবই প্রায় বিলুপ্তের পথে। বর্তমান ১৬টি পরিবারের শুধুমাত্র গাছের চারা তৈরীর পাত্র ছাড়া তেমন কোন কাজ নেই বলে নরেন্দ্রনাথ পাল জানান।
এদিকে, মহামারী করোনা ভাইরাসের সময়ে তাদের মাটির তৈরী কোন কিছুই বিক্রি হচ্ছে না। ফলে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ইতোমধ্যে সরকার ৭নং গদাইপুর ইউনিয়নে সাড়ে ৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিলেও পরিবারগুলোর মধ্যে কেউ কোন প্রকার সাহায্যের হাত বাড়ায়নি বলে বিধান পাল ও সুব্রত পাল জানান।
এ অবস্থায় সরেজমিনে দেখা যায়, ১১২ বছরের বৃদ্ধা বেহুলা পাল নিজ হাতে মাটির জিনিসপত্র তৈরী করছে এবং সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে জানান, আমাদের এই চরম দুর্দিনে কেউ খোঁজ-খবর নেয়নি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ জাকির হোসেন লিটন সত্যতা স্বীকার করে জানান, ১শ কেজি চাল পেয়েছি। ৫ কেজি করে ২০টি পরিবারে দিয়েছি। যা পালপাড়া পর্যন্ত দেয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে দেয়া হবে।
আনন্দবাজার/শাহী




