ঢাকা | শনিবার
৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একদিনও আসেনি, তবুও টিউশন স্যারের সম্মানী দিয়ে দিন

দিদারুল আলম সজল

আজকে মাসের প্রথম দিন। ছাত্র এবং বেকার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। এই দিন টিউশনির সম্মানীটুকু পাওয়া যেতো। সারা মাসের সম্বল এই কয়টা টাকাই। অনেকে এই টাকায় নিজের পরিবারও চালায়।

গত প্রায় দেড় মাস ছুটি। স্বাভাবিকভাবেই কেউ পড়াতে পারে নাই, তাই টিউশন স্যারের সম্মানীটুকু দেওয়ার কথাও কেউ মাথায় আনছেন না। অথচ এই টাকাটা ওই বেকারের/ছাত্রের/শিক্ষকের খুব দরকার।

আপনারা প্লিজ একটু মানবিক হোন। যে আপনার সন্তানকে আপনজনের মতো পড়ায় তাঁর প্রতিও আপনি ভালোবাসার হাতটুকু বাড়িয়ে দেন। পুরো টাকাটা না পারেন অন্তত অর্ধেক বেতনটা দেন। সারাজীবন তো অনেক লাভ করলেন, এবার না হয় একটু লোকসানই হোক!

যদিও লোকসান হবে না। টিউশন যারা করায়, তারা ঠিকই পোষায় দিতে জানে…

আরেকটা বিষয়

নিজের জীবনের একটা ঘটনা বলি-

আমি তখন চট্টগ্রামে থাকি। বেকারত্বের একবছর পার হয়েছে।এ সময়ে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে ‘ডেমোনেস্টেটর’ পদে আমার একটা চাকরির সুযোগ আসলো। ভালো বেতন মাশাল্লাহ। যদিও অস্থায়ী, তবে স্থায়ী হওয়ারও সুযোগ আছে।জয়েন করে ফেলবো ভাবতেছি। আমার অন্যতম মেন্টর ‘জামশেদ ভাই’ জয়েন করতে দিচ্ছেন না। বলছেন, নিজের আরো বড় লক্ষ্যের দিকে ছুটতে। ওই সময়ে ২ নম্বর গেটের মালেক ভাইয়ের দোকানে আমাদের ‘মিশুক ভাই’ একটা কথা বলেছিলেন-
“সজল, ধৈর্য হারাইও না। নিজের লক্ষের দিকে ছুটো। টাকা লাগলে আমি দিবো। ধার হিসেবেই নেও। পরে চাকরি পাইলে শোধ করে দিবা।”

মিশুক ভাইয়ের কাছে আমার টাকা ধার নিতে হয় নাই। কিন্তু ওই কথাটুকু ওই সময়ে আমাকে কতটা সাহস দিয়েছিলো তা মিশুক ভাই নিজেও জানেন না। পরবর্তীতে জামশেদ ভাইসহ আরো কিছু বড় ভাইদের চাকরি হওয়ার পর তাদের কাছ থেকেও এই সাহসটুকু পেয়েছি। বেকার জীবনে এই সাহসটুকুর খুব দরকার।

আপনার কাছের বন্ধু বা ছোট ভাইদের এই দুঃসময়ে একটু খোঁজ খবর নেন। মেসেঞ্জারে একটা ছোট্ট নক দিয়ে জানাই দেন- “কোন দরকার হলে জানাইস। আমি আছি।”
সামর্থ্য থাকলে কিছু টাকা ধার দেন। ওরা ফেরত দেবে নিশ্চিত থাকেন…
আর যদি না দেয়, না দিলো। জীবনে কখনো কখনো হারার মাঝেও প্রাপ্তি থাকে।

লেখক :
দিদারুল আলম সজল
সিনিয়র অফিসার
সোনালী ব্যাংক লিমিটেড

সংবাদটি শেয়ার করুন