সাহেদুল ইসলাম (পারভেজ)
রমজানে রীতিমতো এই দেশের ব্যবসায়ীরা গলাকাটা ডাকাতের ভূমিকায় থাকে। এতে সন্দেহ নেই। এইবারও মিলেছে তাঁর হাতে নাতে প্রমাণ। বাজারে গেলাম, দেখলাম এই এক সপ্তাহে প্রতিটা জিনিস প্রতি ১০ টাকা বা ২০ টাকা বেশি। প্রথমত, করোনা ভাইরাসের কারণে নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষদের জীবিকার পথ পুরোপুরি বন্ধ। ত্রান সহায়তার মাধ্যমে তারা হয়তো ৫ বা ৭ দিন ভালো ভাবে চলে যাবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে সার্বিক পরিস্থিতি এমন স্থবির থাকলে দুর্ভিক্ষ আসন্ন।
কৃষক যখন ফসল উৎপাদন করে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয় এবং বীজ,সার,কীটনাশক এমনকি কৃষিতে ব্যবহার কারার উপকরণের দামও বেশি, ফলে কম দামে ফসল বিক্রি করে তাদের চাষের খরচও উঠিয়ে আনতে পারে না। করোনার প্রভাবে পরিবহন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়াতে পণ্যের গুদামতাকরণ ব্যাহত হচ্ছে এবং অভ্যন্তরীন চালানে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে কাচা বাজারেও জিনিসের দাম বাড়ছে হু হু করে।
যেমনঃ কয়েকদিন আগে কৃষক টমেটো তার মাঠেই ফেলে পঁচিয়েছেন কারণ খুচরা টমেটোর দাম ৪ টাকা ছিলো, পাইকারি আরো কম! কৃষকের ফসল শেষ এক লাফে টমেটোর খুচার বাজারে দাম ২০ টাকা!
মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে! ভাবা যায়! প্রতিটা কৃষি পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে শুধু মাত্র সংরক্ষণ না করার জন্য। রমজানে রীতিমতো এই দেশের ব্যবসায়ীরা গলাকাটা ডাকাতের ভূমিকায় থাকবে। এতে সন্দেহ নেই। কৃষি ঋণ পাবে জমির মালিক তার কাগজ ব্যাংকে যদি দিতে পারে! কিন্তু কয়জন জমির মালিকই বা চাষ করেন?
চাষতো করেন, বর্গাচাষীরা! তারা চাইলেও ফসল উপাদনের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া সম্ভব নয়। নিজের পকেটে যা থাকবে তা দিয়ে সার,কীটনাশক,কৃষি যন্ত্র কিনে চাষাবাদ করবেন! পরে যদি সে খরচই তুলতে না পারে চাষ কেনো করবে সে?
খাদ্য সহায়তা না দিয়ে আমি মনে করি যারা অভাবগ্রস্থ বড় পরিসরে হলে তাদের অর্থ সহায়তা বেশি যুক্তিযুক্ত। এতে অর্থনীতির অর্থ সরবরাহও বেশ বাড়বে, টাকার হাত বদলও বাড়বে। করোনা প্যানডেমিক মানুষের জন্য হুমকী, অন্য দিকে ক্রমাগত অভাব বয়ে আনবে দুর্ভিক্ষ।
কল্যাণ অর্থনীতিবিদ, অমর্ত্য সেন বলেছেন, সুষম বন্টনের অভাবে দুভিক্ষ হয়। করোনায়, এই কথাটা আবারো প্রমাণিত। আমাদের সমাজের বন্টণ শৃঙ্খল এখন ধ্বংসের পথে। কিছুদিন আগে খবরে দেখলাম, খাবার অভাবে বৃদ্ধের রাস্তায় ছটফট করে মৃত্যু! কেউ এগিয়ে আসেনি। এই খবরটা আমাদের অসম বন্টণ আর অসহায়ত্বের একটি বাস্তব চিত্র!
সামাজিক দূরত্ব আমাদের এতোটাই চেপে ধরে বসেছে আমরা এখন সামাজিক মমত্ত্ববোধকে টুটি চিপে ধরে মেরে ফেলেছি।
করোনায় সামাজিক দূরত্বের পাশাপাশি, সামাজিক মমত্ত্ববোধ যার যার জায়গা থেকে থাকতে হবে। নতুবা আমি মনে করি, আসন্ন দুর্যোগ ঠেকানো অসম্ভব।
সাবেক ছাত্র অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়




