ঢাকা | শনিবার
৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্রীপুরে খাদ্য সংকটে সহশ্রাধিক বানর

গাজীপুরের শ্রীপুরে বরমী বাজারে প্রায় দুই শতাব্দী আগে থেকে বানরের বসবাস। বন্যপ্রাণী হলেও বন না থাকায় বরমী বাজারের বিভিন্ন বাসা বাড়ী বা দোকানের পরিত্যাক্ত স্থান অথবা গাছের ডালে তাদের বসবাস। আর খাবারের ব্যবস্থা হতো বাজারের দোকানগুলো থেকে।

কিন্তু করোনায় লকডাউনের ফলে দোকান পাট বন্ধ থাকায় খাবার সংকটে পড়ছে বরমীর প্রায় সহশ্রাধিক বানর। খাবারের অভাবে অভূক্ত বানরের কান্না যেন বাড়ছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক বাদল সরকার জানান, খাবারের অভাবে এই প্রাণী বিলীন হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিগত ২০১৭ সালে নভেম্বরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ৫টন খয়রাতী সাহায্য দিয়ে খাদ্য সহায়তা শুরু করেন। তখন বানরের খাবারের জন্য ১’শ টি কলাগাছ রোপন করা হয়। যদিও পরে আর আলোর মুখ দেখেনি। দীর্ঘ ২ বৎসর ধরে এই তহবিল হতে সপ্তাহে দুই দিন বানরকে খাবার হিসেবে রুটি কলা দেয়া হত। এক বৎসর আগে এই তহবিল শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন ভাবে আর বরাদ্ধ না আসায় এখন খাবার দেয়া যাচ্ছে না। এরপর থেকে স্থানীয় দোকানদার ও বানর দেখতে আসা পর্যটকদের দেয়া সামান্য খাবারে কোনভাবে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রন করে আসলেও করোনার কারনে বাজার লকডাউনে থাকায় এখন আর খাবার মিলছে না।

স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী রিপন সাহা জানান, লকডাউনে বাজারের ব্যবসা প্রায় মাসখানেক ধরে বন্ধ। তবে দোকান সংলগ্ন নিজের বাসায় বসে খাবারের জন্য বানরের কান্না শুনতে পান। অভূক্ত এই প্রাণীদের দেখে তার মায়া হয়, তিনি নিজে দুই দিন যৎসামান্য কলা রুটি কিনে বানরদের দিয়েছেন। ইতোপূর্বে এই এলাকার মানুষ ও বানর একসাথে বসবাস করে আসলেও এখন অসহায় হয়ে পড়ছে বানরগুলো।

বন কর্মকর্তা কাজল তালুকদার জানান, এ মুহুর্তে বানরের খাবার সহায়তা দেয়ার মত কোন বরাদ্ধ আমাদের নেই। তবু প্রাণী বলে কথা, তাই প্রকৃতি থেকে খাবারের কোন ব্যবস্থা না থাকা ও করোনর প্রভাবে অভূক্ত থাকায় মানবিক দিক বিবেচনায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

আনন্দবাজার/এফআইবি

সংবাদটি শেয়ার করুন