ব্যাবসা বাণিজ্য প্রায় শূন্যের কোটায় চলে আসায় অখণ্ড অবসরে আছি।
আমাদের এক ক্রেতা সারা বালবি, তিনি ইতালির নাগরিক। তিনি এসেছিলেন তার খাবার সংগ্রহ করতে। করোনা নিয়ে ইতালি সম্পর্কে কথা হচ্ছিল তার সাথে। সারা জানালেন দেশে তাঁর মা-বাবা সুস্থ আছেন।
প্রশংসা করছিল তার দেশের স্বাস্থ্য সেবার। কিন্তু করোনা সংক্রমণে এইভাবে ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি দায়ী করেন তাদের দেশের সাধারণ জনগণকে। কারণ সরকারি নির্দেশনা মানেনি কেউ। কিছুই হবে না ভেবে বাসায় থাকেনি। তারা ভেবেছিল এটা সাধারণ ফ্লু, সাধারণ সর্দি-কাশি। তবে পরে সব বুঝতে পেরেছে কিন্তু যথেষ্ট ততদিনে দেরি হয়ে গেছে।
লন্ডনও একই ভুল পথে হাঁটছে বলে ধারণা করছেন সারা। তার এক ব্রিটিশ বন্ধু নাকি এটাকে পাত্তাই দিচ্ছে না। বন্ধুটির ভাষ্য মতে-সে যুবক, তাই তার কিছুই হবে না। সারা বালবি বেশ জোর দিয়েই বলল, ব্রিটেন যদি ইতালি থেকে শিক্ষা না নেয় তাহলে বড় ভুল করবে।
আমি বললাম, ব্রিটেন তো তাও চেষ্টা করছে, তোমার এই বার্তাটা আমাদের বাংলাদেশের জন্য খুবই জরুরি। আমাদের তো তোমাদের মতো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাই নেই। তবুও জনগণ পাত্তা দিচ্ছে না।
তাকে আমি আরো বললাম, আমরা এই যেসব কথা বলছি বাংলাদেশের মানুষ তা বিশ্বাসই করতে চাইবে না। আমাদের জনগণ আজকাল ভিডিওসহ লিংক চায়। তাই তোমার অন্তত একটা ছবি সংযুক্ত করে আমি ফেসবুকে দিতে চাই।
আরো বললাম, বাংলাদেশের নাগরিকই একমাত্র দেশকে নিরাপদ রাখতে পারবে। ডাক্তার, কবিরাজ, পানি পড়া, ফুউউউউ- কিছুই কাজে আসবে না।
ছবির কথা বলতেই সুন্দরী নারী তার নিজের পোষাকের দিকে তাকিয়ে একটু ইতস্তত করছিল তবে আশাহত করেনি। হাসি মুখেই একটা পোজ দিলেন।
ভাল থাকুক ইতালি, ভাল থাকুক ব্রিটেন, ভাল থাকুক বাংলাদেশ…।
ভাল থাকুক বিশ্বমানবতা…।
(লন্ডন থেকে)
আনন্দবাজার/তা.তা




