বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১৫ আসন নিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের প্রতীক বরাদ্দ শেষে সাংবাদিকদের সামনে দুই দলের নেতারা এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন অভিযোগ করেন, আচরণবিধি মেনে প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে গিয়েও একটি বিশেষ দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, তারা নিজেদের সমর্থকসহ পাঁচজন উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু বিরোধী দল দশজনের বেশি লোক নিয়ে আসে। এছাড়া নারীদের বাসায় বাসায় পাঠিয়ে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায় নারীকর্মীরা
এনআইডি ও বিকাশ নম্বর চাইছিল, যা ব্যক্তিগত এবং অন্য কারো কাছে হস্তান্তরযোগ্য নয়। পরে ওই নারী কর্মীদের প্রশ্ন করার পর তাদের নেতারা ২০-২৫ জন নিয়ে এসে নাজেহাল করেন। একইভাবে পীরেরবাগ ও শেওড়াপাড়ায় স্থানীয়দের প্রশ্নে জামায়াতের সংঘবদ্ধ কর্মীরা বিএনপির দুজন কর্মীকে মারধর করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কাছে তিনি সহায়তা চান এবং ইসিকে সকলকে নির্ভয়ে ভোটদানে সহায়তা করার অনুরোধ করেন।
পাল্টা অভিযোগে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিএনপি থেকে তাদের নারী ভোটারদের ওপর সন্ত্রাসীভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
বিএনপির অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে তারা সব প্রচারণা সামগ্রী সরিয়ে ফেলেছে এবং ইসির অনুমতি না নিয়েই কোনো কাজ করেনি। তিনি অভিযোগ করেন, অপপ্রচার চালিয়ে ১০ দলীয় ঐক্য ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে—এ বিষয় ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে জুবায়ের বলেন, আগামী নির্বাচনে সব প্রার্থী অংশ নেবে এবং গণভোটের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটে বিজয় নিশ্চিত হবে। তিনি আশা করেন, আর কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটবে না এবং ইসিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে, কারণ গত তিনটি নির্বাচন হয়নি।




