প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, পোস্টাল ব্যালট প্রকল্প সফল হলে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে পোস্টাল ব্যালট অ্যাপের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে ব্রিফিং অনুষ্ঠান শেষে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আজকে নিশ্চয়ই আপনারা পোস্টাল ব্যালটের টেকনিক্যাল বিষয় জানতে পেরেছেন। একটা জিনিস আপনাদের কাছে আপিল করব, আমাদেরকে উৎসাহিত করতে হবে। আমরা এমন একটা উদ্যোগ নিয়েছি, যেটা এর আগে কেউ চেষ্টা করেনি। কেউ এই ঝুঁকি নেয়নি।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা যখন ঘোষণা দিলেন, আমরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এই রিস্কটা নিয়েছি। বহু ঝামেলা আসবে, বহু চ্যালেঞ্জ আসবে তারপরও শপথ নিয়েছি, আমরা বাস্তবায়ন করবই।
সিইসি বলেন, এই বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়ার শুরু থেকে এ পর্যন্ত আপনাদের সহযোগিতা আমরা পেয়েছি। আমি তো দেখতাম, সবসময় আমাদের যে স্ক্রিনটার সামনে সাংবাদিক ভাইয়েরা থাকতেন, ভোটারের সংখ্যা দেখতেন। আপনাদের সহযোগিতা না পেলে আমরা এতটুকু আসতে পারতাম না।
যেকোনো নতুন উদ্যোগে কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে তিনি বলেন, ভুল হয়েছে আমি তা বলব না। অনেক সময় আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা ক্লিয়ার হয়ে গেলে কনফিউশনটাও ক্লিয়ার হয়ে যায়। তখন দেখবেন, নিজে নিজেই বুঝবেন যে এখানে আসলে অন্য কোনো মোটিভ কাজ করেনি। এজন্য সত্যিকার অর্থে কী ঘটনা ঘটেছে, সেটা অনেক সময় না জানার কারণে অনেকের মধ্যে অন্য ধরনের চিন্তাভাবনা আসে।
তিনি আরও বলেন, আমরা পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা একদম প্রথম থেকেই প্রকাশ করে আসছিলাম, যেটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাটাও আমাদের জন্য বড় ধরনের একটা সমস্যা, যা আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম।
সিইসি বলেন, ১২২টা দেশ থেকে প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন। এখানে ১২২ রকমের কালচার, পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের ১২২ রকমের আইন-কানুন। আমাদের দেশে পোস্টাল সিস্টেম একরকম, অন্য দেশগুলোতে আবার ভিন্ন। এগুলোর মাঝে পার্থক্য দূর করা বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদের টিম কাজ করে যাচ্ছে। আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করি, আমরা সবাই মিলে কাজ করলে বাংলাদেশের এই পোস্টাল ব্যালট প্রকল্প সফল করতে পারলে এটার জন্য হয়তো দেখবেন, সারা দুনিয়াতে বাংলাদেশের নামটা উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, অনেকে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসে বলেন- আপনারা যদি এটা করতে পারেন, তাহলে আপনাদের নাম তো ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে লেখা হয়ে যাবে। কারণ অনেক দেশ এটা করতে পারেনি। আমাদের আশপাশের দেশেও কেউ এভাবে সফলভাবে করতে পারেনি। আমরা প্রথম বছরেই মোটামুটিভাবে যেটা করেছি, এখন পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম দেখে খুব একটা খারাপ হয়েছে বলে আমরা মনে করি না।




